আজকাল ওয়েবডেস্ক: এগিয়ে আসছে অসমের ভোট। তাই প্রচারে নেমেছেন অসমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী। এজেপি অর্থাৎ অসম জাতীয় পরিষদের হয়ে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এই ২৬ বছরের তরুণী, তিনি কুনকি চৌধুরী। 

অসমে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এজেপির হয়ে টিকিট পেয়েছেন কুনকি। তিনি অসমে নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী এবং লড়ছেন গুয়াহাটি সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে। এই কেন্দ্রটি অসমের রাজনীতিতে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং নজরকাড়া বলেই পরিচিত।

প্রচারে বেরিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলছেন কুনকি। অনেকেই আবেগে জড়িয়ে ধরছেন তাঁকে। সংবাদমাধ্যমকেও নিজের কথা বলছেন তিনি। সাধারণ মানুষ তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন, স্নেহ ভালবাসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। 

এই কেন্দ্রে কুনকির উল্টোদিকে প্রার্থী হিসাবে আছেন বিজেপির বিজয় কুমার গুপ্ত। তিনি পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ, জননেতা। এদিকে কুনকি এবার প্রথম নির্বাচনের টিকিট হলেন। এই কেন্দ্রের ভোটের লড়াই নজর কেড়েছে বহুজনের। একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে তরুণ তুর্কি। 

সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে কুনকি জানিয়েছেন, ‘এই সুযোগ হঠাৎ করেই এল আমার কাছে। অপ্রত্যাশিতভাবে। যদিও এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে একেবারেই নতুন, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ সুযোগ যখন পেয়েছি, তাহলে ছাড়ব কেন?’ 

গোটা স্কুল জীবন অসমে কাটিয়ে কুনকি পাড়ি দেন মুম্বইয়ে। নার্সি মঞ্জি ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে লেখাপড়া করে তিনি চলে যান লন্ডনে। সেখানে স্নাতকোত্তর শেষ করেন ইন্সটিটিউশন অফ এডুকেশন অ্যান্ড সোসাইটি, ইউনিভার্সিটি কলেজ, লন্ডন থেকে। এরপর তিনি অসমে ফেরেন গত বছর।

কুনকির কথায়, ‘আমি কখনও সক্রিয় রাজনীতি করিনি। মন দিয়ে লেখাপড়া করেছি। দেশে থেকে কিংবা বিদেশে গিয়ে, লেখাপড়াই করেছি। কখনও ভাবিনি রাজনীতিতে যোগ দেব। আমার পরিবারের কেউই কখনও রাজনীতি করেননি। তবে শুনেছি আমার বাবার বাড়ির দিকের কেউ পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পংয়ে রাজনীতি করতেন। আমার এক ঠাকুরদা স্থানীয় মানুষ, বিধায়ক ছিলেন তখন। ব্যস, ওইটুকুই। আমার পরিবারের কেউ সরাসরি কখনও রাজনীতিতে নামেননি।’

পায়ে হেঁটে প্রচারে বেরিয়েছেন কুনকি। মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তিনি। যাঁরা ঘরছাড়া তাঁদের সঙ্গেও কথা বলছেন। বলছেন, দিন বদলের কথা। তাঁর অনুগামীদের ভাবনায়, কুনকি একজন প্রার্থীই শুধু নন, তিনি পরিবর্তনের অন্যতম চাবিকাঠি। তিনি অসমের ঘরের মেয়ে, নিজের মেয়ে, আপনজন।

এই ২৬ বছরের তরুণীর কন্ঠে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ছে বারবার। কিন্তু তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে। সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘বিজয় গুপ্তর প্রতি আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। উনি অনেক অভিজ্ঞ এবং একটা বড় পার্টির নেতা। এবার অসমের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে নির্বাচিত করবেন’। 

কুনকি জানান, ‘আমার প্রথম কাজ হবে বন্যা মোকাবিলায় হাত দেওয়া, কারণ এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এবার তার একটা সমাধান প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজ্যের নিকাশি ব্যবস্থারও উন্নতি প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, যুবক যুবতীদের উদ্বুদ্ধ করব নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করার বিষয়ে। আমি দেখেছি, দক্ষ মানুষদের কাজের অভাব হয় না। নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা করব এবং অতি অবশ্যই মহিলাদের সুরক্ষা নিয়েও কাজ করব। এবার এই ভাবনাকে আপনি ক্ষমতার লোভ যদি বলতে চান আমার আপত্তি নেই’।