আজকাল ওয়েবডেস্ক: এলপিজি সঙ্কটে দেশজুড়ে রেস্তোরাঁ, হোটেলগুলি ধুঁকছে। লক্ষ লক্ষ কর্মী ইতিমধ্যেই চাকরি খুঁইয়েছেন। এলপিজির সরবরাহ ধাক্কা খাওয়ায় এবার রাজ্য জুড়ে গোটা দিন বন্ধ থাকবে সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এলপিজি সঙ্কটের জেরে এহেন প্রতিবাদে সামিল হবেন কেরলের সমস্ত রেস্তোরাঁর মালিক। কেরলের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ২৩ মার্চ সোমবার প্রতিবাদ স্বরূপ রাজ্যের সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে।
কেরলের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংগঠনের তরফে আরও অভিযোগ জানানো হয়েছে, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রেস্তোরাঁয় স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই সুযোগে বেসরকারি সংস্থাগুলি চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছে। শুরু হয়েছে কালোবাজারি।
এলপিজি সঙ্কট ঘিরে আগামিকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের তরফে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই মিছিলে রাজ্যজুড়ে সমস্ত রেস্যতোরাঁর মালিক ও কর্মীরা সামিল হবেন বলে সূত্রের খবর।
মধ্য এশিয়ায় চলা যুদ্ধের আবহে দেশে রান্নার গ্যাসের জোগানে টান। বিশ্বব্যাপী আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র যে কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করছে, মঙ্গলবার বোম্বে হাই কোর্টের নাগপুর বেঞ্চকে তা জানাল মোদি সরকার। একই সঙ্গে সরকারি এই প্রচেষ্টার ওপর আদালতকে আস্থা রাখারও আর্জি জানানো হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক বিবৃতিতে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা বাড়ার কারণে সরকার ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, চলতি মাসের ৫ মার্চ থেকে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে যাতে বাড়তি চাহিদা সহজেই মেটানো যায়।
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে দেশের কয়েকটি শহরে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর জেরে অনেক এলাকায় গ্যাস এজেন্সির সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকেই গ্যাস বুকিং ও ডেলিভারির সময় নিয়ে জানতে এজেন্সিগুলিতে যোগাযোগ করছেন। এই পরিস্থিতিতেই সরকার পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সামনে এসেছে।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পরিবহন ও ডিস্ট্রিবিউশন চেইন স্বাভাবিক রাখতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
