আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন পাকিস্তানকে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বেজিংকে কড়া বার্তা দিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা নিজেদের “দায়িত্বশীল দেশ” বলে দাবি করে, তাদের ভাবতে হবে সন্ত্রাসে মদতদাতা রাষ্ট্রকে সাহায্য করলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের ভাবমূর্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “আগে যা নিয়ে ধারণা ছিল, সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলি তা আরও নিশ্চিত করেছে। নিজেদের দায়িত্বশীল দেশ বলে মনে করে এমন রাষ্ট্রগুলির উচিত ভেবে দেখা, সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা সমর্থন করলে তাদের আন্তর্জাতিক সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর কী প্রভাব পড়ে।”


ভারত আবারও জানিয়েছে, অপারেশন সিন্দুর ছিল অত্যন্ত “নির্ভুল, লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিমিত” সামরিক অভিযান। কাশ্মীরের পাহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।
যদিও চীন পাকিস্তানকে সহায়তা করেছিল, সেই অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরই ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল সিং জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষ চলাকালীন চীন পাকিস্তানকে ভারতের সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত “লাইভ ইনপুট” সরবরাহ করছিল।


এবার সেই অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার। বেজিংয়ের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি প্রচার করে। এই সংস্থা চীনের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন তৈরির সঙ্গে যুক্ত।


তবে ভারতের দাবি, চীনের এই সহায়তা সত্ত্বেও পাকিস্তান বড়সড় সুবিধা নিতে পারেনি। ভারতীয় বায়ুসেনার ধারাবাহিক হামলায় পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতির জন্য দিল্লির দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়।

 


রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভারত-চীন সম্পর্ক এমনিতেই সীমান্ত ইস্যুতে সংবেদনশীল। তার মধ্যে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে সামরিক সহায়তার ইঙ্গিত বেজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, অপারেশন সিন্দুর নিয়ে নতুন এই প্রকাশ্য তথ্য ভারত-চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের কূটনৈতিক সমীকরণকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।