আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলে মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেস সাংসদ কে.সি বেণুগোপালই রাহুল গান্ধীর প্রথম পছন্দ। দলীয় সূত্রে খবর, আলাপ্পুঝা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার পক্ষেই সওয়াল করছেন রাহুল গান্ধী। আগামী দু’দিন দলীয় কর্মী ও নেতাদের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাতে রাজি করানোর কাজ চলবে বলেও জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে রাহুল গান্ধী আলাদা করে বেণুগোপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে কেরলে বেণুগোপালের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে। অভিযোগ, কংগ্রেসেরই এক প্রভাবশালী নেতা ভিডি সাথীশনের সমর্থনে পোস্টার লাগানো হয়।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে সাথীশন পৌঁছনোর পর এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন রাহুল গান্ধী। সূত্রের দাবি, সাথীশন স্বীকার করেন যে তিনি বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করার বিরোধী।
সাথীশনের অভিযোগ, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেণুগোপাল বিধায়কদের উপর চাপ সৃষ্টি করে একাধিক গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কখনও ব্যক্তিগত স্বার্থে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি করেননি, বরং সকলকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করেছেন।
এছাড়াও সাথীশন কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানান, নেনমারা, কাজাকুট্টম, ওয়াডাকাঞ্চেরি, নেদুমাঙ্গাড এবং চের্থলার মতো কেন্দ্রে বেণুগোপালের পছন্দের প্রার্থীদের টিকিট না দিলে দল আরও বেশি আসন পেতে পারত।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বেণুগোপাল এখনও এগিয়ে বলেই মনে করা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ মুখ নাকি স্থানীয় নেতা রাজ্যে যার সংগঠন শক্তিশালী কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা যায় সেই টানাপোড়েন চলছে কংগ্রেসের মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বেণুগোপালের পাশাপাশি রয়েছেন ভিডি সাথীশন এবং রমেশ চেন্নিথলাও। দক্ষিণের রাজ্যে এই দুই নেতারই শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে সাথীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করছে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ।
সংখ্যার নিরিখে কেরল বিধানসভার ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৬৩টি। আইইউএমএল পেয়েছে ২২টি আসন, কেরল কংগ্রেস (কেইসি) ৮টি এবং রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (আরএসপি) ৩টি আসন। সব মিলিয়ে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের ঝুলিতে এসেছে ১০২টি আসন, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারও বেশি।
কেরল কংগ্রেসের নেতাদের বক্তব্য, বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ভিডি সাথীশনই পিনারাই বিজয়ন নেতৃত্বাধীন এলডিএফকে ক্ষমতাচ্যুত করার ভিত তৈরি করেছিলেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।















