আজকাল ওয়েবডেস্ক: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বামপন্থীরা। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেছেন, ত্রিপুরা যেভাবে কমিউনিস্টদের দুঃশাসন কাটিয়ে উঠেছে, কেরলমের জনগণকেও সেটা কাটিয়ে উঠতে হবে। তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপি যেভাবে কাজ করেছে কেরলেও বিজেপির উচিত দুর্নীতিকে উপড়ে ফেলা এবং একটি সমৃদ্ধ কেরল গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। তিনি আরও বলেছেন, বিভাজনের রাজনীতিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে উন্নয়নের রাজনীতি দিয়ে প্রতিস্থাপন করার এটাই সুবর্ণ সময়।

কেরলের কালপেট্টা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত মালাভায়ালের সমর্থনে আয়োজিত একটি নির্বাচনী প্রচারে ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। নির্বাচনী সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ত্রিপুরা একসময়ে বাম শাসনের 'দুর্গ' হিসেবে পরিচিত ছিল। আজকে আপনারা যেটার সম্মুখীন হয়েছেন, আমরাও সেটা সম্মুখিন হয়েছি। সময় এসেছে, আমরা ইতিমধ্যেই সেটা পেরিয়ে এসেছি। আপনাদেরও এঅই সময়কে উতরোতে। আপনাদের সেই দুঃশাসন পার্টির সরকারকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আপনারা জানেন যে বিজেপির ২০২৬-এর মিশন, শুধুমাত্র একটি প্রচার নয়, এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিশনের অংশ হিসেবে বিকশিত কেরল গড়ে তোলার একটা প্রতিশ্রুতি এবং তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব উন্নয়ন, সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা এবং আমাদের বিশ্বাসের অটল সুরক্ষা নিয়ে আসবে। অনেক দিন ধরে, এলডিএফ এবং ইউডিএফ ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো একটি বিপজ্জনক খেলা খেলেছে, যা সবাই জানেন। ওরা পালাক্রমে কেরল লুট করছে, এর ভোগান্তি পোহাচ্ছে জনগণ। আমরা যেমন ত্রিপুরায় করেছি, এখানেও বিজেপির উচিত এই দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা এবং একটি সমৃদ্ধ কেরল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।" 
  
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "২০১৮ সালে ত্রিপুরার রূপান্তরের গল্প এবং এটা কীভাবে কেরলের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলিতে প্রযোজ্য হবে সেটা বিবেচিত হবে। সিপিএম ৩৫ বছর ধরে ত্রিপুরা শাসন করেছিল। তারা দাবি করেছিল যে, এটা তাদের চিরন্তন রাজ্য। শূন্য বিরোধী, না ছিলেন কোনও বিজেপি বিধায়ক, কোন সাংসদ, কোন কাউন্সিলার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর অধীনে আমরা জন বিপ্লব শুরু করেছি, এবং আমাকে মেম্বারশিপ ড্রাইভের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, প্রতিটি বুথে পৃষ্ঠা প্রমুখদের নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে আমরা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল স্তরের কর্মী এবং নিবেদিত কার্যকর্তাদের গড়ে তুলেছি।"
 
মানিক সাহা আরও বলেন, "২০১৮ সালের নির্বাচনে গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে যে, বিজেপি ৩৬টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং মিত্র আইপিএফটিও ভাল ফল করেছে। আমরা ৬০টির মধ্যে ৪৪টি আসন জিতেছি। এমনকি কংগ্রেসও নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। কেন? কারণ মানুষ দেখেছে, তারা বংশ পরম্পরার চেয়ে উন্নয়নকে বেছে নিয়েছে, অপচয়ের চেয়ে কল্যাণকে বেছে নিয়েছে। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা সেটা রক্ষা করেছি। জনজাতি এলাকাকে অগ্রাধিকার, নতুন চাকরি, লক্ষাধিক পরিবারের জন্য আবাসন, শৌচাগার, বিশুদ্ধ জল, প্রত্যন্ত গ্রামগুলির সংযোগকারী রাস্তার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিটি সেক্টরই উন্নয়নের সাক্ষী। আমরা মহিলাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।"

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, কেরলের রাজনীতিবিদরা প্রার্থনা করেন না বা বিশ্বাস করেন না এবং মন্দিরের গুপ্তধনের অব্যবস্থাপনা করেন। ভারতের ঐতিহ্য রক্ষায় বিজেপি নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করি, মন্দিরগুলো যাতে সত্যিকারের ভক্তদের দ্বারা পরিচালিত হয়, যারা বিশ্বাসের সঙ্গে প্রদীপ জ্বালায়, লোভ দিয়ে ব্যালট নয়। এলডিএফ এবং ইউডিএফ উভয়ই কেরলকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একটি চক্রে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে সরকারি দপ্তর ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে উন্নয়ন, জবাবদিহিতা এবং উন্নয়নের রাজনীতির জন্য এটাই সুবর্ণ এবং সেরা সময়। এনডিএ স্বচ্ছ সরকার, পরিচ্ছন্ন প্রশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি মালয়ালি বৈষম্য ছাড়াই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।