আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এবার সরাসরি দেশের 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ডাক দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতের যুবসমাজকে জবাবদিহি চাওয়ার আহ্বান জানান। কেজরিওয়ালের মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তরুণরা যদি সরকার বদলে দিতে পারে, তবে ভারতের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা কেন প্রশ্ন ফাঁসের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবে না?
মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে আম আদমি পার্টির এই জাতীয় আহ্বায়ক অভিযোগ করেন যে, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে অন্তত ৯৩ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই দুর্নীতির ফলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে পড়েছে। কেজরিওয়াল তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। এটাকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা কাকতালীয় বলে মানতে তিনি নারাজ। উল্টে তার প্রশ্ন, এর নেপথ্যে কি তবে শাসকদলের রাঘববোয়ালরা জড়িত? আর যদি তা-ই হয়, তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি বলেন, এর আগের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাগুলোতেও সিবিআই কার্যত কিছুই করতে পারেনি।
সাম্প্রতিক নিট কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন যে, এই দুর্নীতির উৎসস্থল হল রাজস্থান। তিনি ভারতের তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছোঁড়েন— "এই অবস্থা কি চলতেই দেওয়া উচিত?" নেপালের কেপি ওলি সরকার এবং বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যদি তরুণরা রাস্তায় নেমে পরিবর্তন আনতে পারে, তবে ভারতের ছাত্রছাত্রীরা কেন অভিযুক্তদের জেলে পাঠাতে পারবে না? ভারতের যুবশক্তির ওপর তার অগাধ আস্থা আছে বলেও তিনি জানান।
তবে কেজরিওয়ালের এই মন্তব্য ঘিরে যখন বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে, তখন তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন দিল্লির প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী অতিশী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেজরিওয়াল কোনওভাবেই নেপাল বা বাংলাদেশের মতো হিংসাত্মক অভ্যুত্থানের কথা বলেননি। অতিশীর দাবি, 'ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন' আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আম আদমি পার্টি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কেজরিওয়ালের বার্তা ছিল গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদের মাধ্যমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।
একইসঙ্গে অতিশী প্রশ্ন তোলেন পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের কড়াকড়ি নিয়ে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যখন কোনও ছাত্র পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তার পোশাক থেকে শুরু করে জলের বোতল বা কলম— সবকিছুর ওপর প্রশাসনের হাজারো নজরদারি থাকে। কিন্তু যারা পরীক্ষা পরিচালনা করছে, সেই সব বড় কর্তাদের জন্য কেন কোনও কঠোর নিয়ম নেই? নিয়ম কি শুধু সাধারণ পড়ুয়াদের জন্যই? নিটকাণ্ডে সিবিআই ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করলেও, কেজরিওয়াল এবং অতিশীর এই সুর চড়ানো বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
















