আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র দু’দিনের ব্যবধান। এর মধ্যেই মোদি সরকার এবং বড় বড় শিল্প সংস্থাগুলি তিনটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে রীতিমত মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, দুধের দাম বাড়ানো এবং চিনি রপ্তানি বন্ধ- এই সব মিলিয়ে দানা বাঁধছে তবে কি এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পালা?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি অভয় দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দেশে তেলের জোগান পর্যাপ্ত, ভয়ের কিছু নেই। তিনি বলছেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয়ের আবেদন আসলে একটি আগাম সতর্কবার্তা।”
মঙ্গলবার সিআইআই সম্মেলনে মন্ত্রী সরাসরি জানান, যুদ্ধের আবহেও গত চার বছরে ভারতে তেলের দাম বাড়েনি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “আমি বলছি না যে দাম কোনওদিন বাড়বে না, তবে তার সঙ্গে ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই।”
এখন নীতিনির্ধারকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তিনটি- খরচ কমানো, জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিদেশের দেনা বা আমদানির অর্থ সামলানো।
প্রথম ধাক্কাটি এসেছে সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায়। সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমদানি কমিয়ে বিদেশের মুদ্রা বাঁচানো। সেই টাকা দিয়ে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি কেনাই উদ্দেশ্য৷
দ্বিতীয় বড় খবরটি এসেছে আমুল ও মাদার ডেয়ারির মতো সংস্থাগুলোর থেকে। দুধের দাম প্যাকেট প্রতি ১ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ডেয়ারি সংস্থাগুলোর যুক্তি, পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যে ভাবে বাড়ছে, তাতে দাম না বাড়িয়ে উপায় ছিল না। জ্বালানি তেলের বিশ্বব্যাপী চড়া দরের প্রভাব যে এ ভাবে খাবারে পড়তে শুরু করবে, তা আগেভাগেই আশঙ্কা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃতীয়, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্র। দেশের বাজারে চিনির টান যাতে না পড়ে এবং দাম যাতে নাগালের বাইরে না চলে যায়, সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিস্থিতিকে আর ‘সাময়িক’ বলে মনে করছে না। ভবিষ্যৎ সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমজনতাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আর্জি জানিয়েছেন।
বাড়ি থেকে কাজ, অনলাইন ক্লাস বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের ওপর জোর দিতে বলেছেন তিনি। প্রবীণ ব্যাঙ্কার উদয় কোটাকও সতর্ক করে বলেছেন, “সামনে বড় ধাক্কা আসছে। পশ্চিম এশিয়া সঙ্কট লম্বা চললে ভারতের অর্থনীতিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।”
এখনও পর্যন্ত বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও তেল সংস্থাগুলো প্রবল চাপের মুখে। লোকসান সয়ে তারা কতদিন দাম এক জায়গায় ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয়।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, সরকার এখনই সরাসরি তেলের দাম না বাড়িয়ে সাশ্রয়ের পথে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দর যদি না কমে, তবে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো ছাড়া কেন্দ্রের সামনে হয়তো আর কোনও পথ থাকবে না।
৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এই একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্তে আমজনতার কপালে ভাঁজ। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়-দেশবাসীর চিন্তা এখন এটিই।
















