আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার ওয়াকফ সংশোধনী বিল মঞ্জুর করল যৌথ সংসদীয় কমিটি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রস্তাবিত ১৪টি রদবদলেই সবুজ সংকেত দিয়ে জেপিসি। ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের নতুন নাম হবে 'ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট।' 

ওয়াকফ আইনে মোট ৬৭টি পরিবর্তন নিয়ে এ দিন আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াকফের সদস্য হবে দুই অমুসলিম সদস্য। মূল খসড়ায় এই বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ হল ওয়াকফ কাউন্সিল (রাজ্য বা সমগ্র জাতীয়স্তরে) কমপক্ষে দু'জন এমন মনোনীত সদস্য থাকবেন যাঁরা মুসলিম নন। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট রাজ্য কর্তৃক মনোনীত একজন আধিকারিককে সম্পত্তি আদৌ ওয়াকফ কিনা তা নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল খসড়ায় এই সিদ্ধান্ত জেলা কালেক্টরের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

গত ৮ অগাস্ট ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৪ যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় প্রস্তাবিত বিল পেশের পরেই তা জেপিসিতে পাঠানো হয়েছিল।

বিজেপি সাংসদ এমপি জগদম্বিকা পালের নেতৃত্বধীন জেপিসি সর্বমোট ৬৭টি সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছে। যার মধ্যে ২৩টি হল বিজেপির তরফে এবং ৪৪টি বিরোধী সদস্যদের তরফে। এ দিন জগদম্বিকা পালজানান, ৪৪টি সংশোধনী নিয়ে কমিটিতে গত ৬ মাস ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এদিন ছিল চূড়ান্ত বৈঠক। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে ১৪টি সংশোধনী গৃহীত হয়েছে। দল ধরে ভোটাভুটিতে বিরোধী সাংসদদের প্রস্তাবগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে।

সূত্রের খবর, ১৪টি পরিবর্তনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ভোটগ্রহণ হবে ২৯ জানুয়ারি এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে। 

জেপিসি-র ১৬ জন ছিলেন বিজেপি ও শাসক জোটের সদস্য। বাকি ১০ জন ছিলেন বিরোধী দলের সাংসদ। জগদম্বিকা পাল জানান, বিরোধীদের প্রস্তাবগুলিও ভোটাভুটিতে ওঠে। তাতে বিরোধীদের পক্ষে যায় ১০টি ভোট, বিরুদ্ধে পড়েছে ১৬টি ভোট।

বিরোধীদের অভিযোগ, জেপিসি-র চেয়ারম্যান একপেশে মনোভাব নিয়েছেন। তাঁদের কথার গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মিম সাংসদ আসাদউদ্দীন ওয়েইসি এবং ডিএমকে-র কানিমোঝির যুক্তি, এটি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে, যার মধ্যে রয়েছে অনুচ্ছেদ ১৫ (নিজের পছন্দের ধর্ম পালনের অধিকার) এবং অনুচ্ছেদ ৩০ (সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্তরা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার)।