আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরব সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝসমুদ্রে আটকা পড়া একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজকে উদ্ধার করে মানবিকতার নজির গড়ল পাকিস্তান নৌবাহিনী। ওমান থেকে ভারত অভিমুখে আসার পথে 'এমভি গৌতম' নামে ওই জাহাজটির জেনারেটর বিকল হয়ে গেলে এই বিপত্তি ঘটে। জাহাজটিতে ছয়জন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ মোট সাতজন ক্রু ছিলেন।

গত ৩ মে মাঝসমুদ্রে জাহাজটির বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে থাকে। করাচি ও মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের পর পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের ‘পিএমএসএস কাশ্মীর’ জাহাজটি নিয়ে অভিযানে নামে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চরম সংকটে পড়া ক্রুদের জন্য জরুরি খাবার, জল এবং চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের কারিগরি দল জাহাজটির ত্রুটি সারানোর চেষ্টা চালায়, যদিও পরে দেখা যায় প্রধান জেনারেটরটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভারতীয় সূত্র এবং সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি জানিয়েছে, ৪ মে রাত ১১টা নাগাদ ভারতীয় কোস্ট গার্ড বিষয়টি জানতে পারে। জাহাজটি তখন পাকিস্তানের উদ্ধার সীমানার মধ্যে থাকলেও ধীরে ধীরে ভারতের সমুদ্রসীমার দিকে ভেসে আসছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জাহাজ 'রাজরতন' দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে দেখা যায়, জাহাজটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং সেটি শুধুমাত্র ব্যাটারির মাধ্যমে ভিএইচএফ রেডিওর ওপর ভর করে টিকে আছে।

বর্তমানে জাহাজটি গুজরাটের দ্বারকা বাতিঘর থেকে প্রায় ২৬২ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে। জেনারেটর বিকল হওয়ায় রাতে জাহাজটি অন্ধকারে ডুবে থাকে, যা ওই পথে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জাহাজটির মালিকপক্ষকে দ্রুত একটি শক্তিশালী টাগবোট পাঠিয়ে সেটিকে টেনে তীরে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দুই দেশের এই পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সময়োচিত পদক্ষেপ জাহাজটির সাতজন কর্মীর প্রাণ বাঁচিয়ে দিল।