আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্তই 'পবিত্র' এবং ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে 'এক ঐক্যের সূত্রে বাঁধা'। 

গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের পুনর্প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কলম ধরেছেন। তাঁর মতে, গত এক হাজার বছর ধরে এই মন্দির রক্ষা করতে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন এবং যাঁরা বারবার এটি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সংগ্রাম ভোলার নয়। মোদি বলেন, “সোমনাথ আমাদের সভ্যতার এক অপরাজেয় প্রতীক। এটি বারবার প্রমাণ করেছে যে, ভারতীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা অসম্ভব।”

ভারতের নানা প্রান্তের মানুষ এক হয়ে এই মন্দির গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের কাছে গোটা দেশ এক 'অবিচ্ছেদ্য পবিত্র ভূমি'।

ইতিহাসকে সম্মান জানাতে সোমনাথে আগামী এক হাজার দিন ধরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এই বিশেষ সময়ে সোমনাথ ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৬-এর শুরুতে সোমনাথ মন্দিরের ওপর প্রথম আক্রমণের স্মরণে ‘সোমনাথ স্বভিমান পর্ব’ পালিত হয়েছে। আগামী ১১ মে প্রধানমন্ত্রী ফের সেখানে যাবেন। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের করা মন্দির উদ্বোধনের ৭৫ বছর পালন করতে সেখানে যাবেন তিনি৷ 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর লেখায় রাজা ভোজ, অহল্যাবাই হোলকার থেকে শুরু করে বীর হামিরজি গোহিলের মতো ব্যক্তিত্বদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কথা। 

১৯৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে প্যাটেলই প্রথম সোমনাথ পুনর্নির্মাণের সংকল্প করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৯৫১ সালে সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন।

শেষে মোদি জানান, তাঁর সরকার ‘বিকাশ’ ও ‘ঐতিহ্য’- এই দুই ধারাকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে 'দায়বদ্ধ'। কাশী, অযোধ্যা বা সোমনাথ- সব ক্ষেত্রেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের পুরনো আধ্যাত্মিক চেতনাকে রক্ষা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সোমনাথ আমাদের শেখায়, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই মানুষ সব বাধা পেরিয়ে সম্মানের সঙ্গে ফের মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।”