আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সে রাজ্যে তথাকথিত 'পশ্চিমবঙ্গ মডেল' অনুসরণ করে প্রায় ৫০ লক্ষ 'ভুয়ো' ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার মুম্বইয়ের দাদরে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় দলের সাংসদ, বিধায়ক এবং পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই কর্মশালায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র চবন দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন কীভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এবং সম্প্রদায়ের ভোটারদের 'ভুয়ো' হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। বিজেপির অন্দরে আলোচনা চলছে যে, পশ্চিমবঙ্গে গত নির্বাচনে প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের নির্বাচনি লড়াইয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল। মহারাষ্ট্রেও সেই একই কৌশলে ১.৭ লক্ষ বুথে দলীয় কর্মীদের মোতায়েন করে 'রোহিঙ্গা' বা 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' তকমা দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ভোটারকে বাতিলের খাতায় ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া এই পদক্ষেপের সপক্ষে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের যুক্তি খাড়া করেছেন। তাঁর দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মুলুন্দের মতো এলাকায় ভোটার সংখ্যা বিশেষ না বাড়লেও মুম্বইয়ের মুমব্রার মতো জায়গায় ভোটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে তিনি সন্দেহজনক এবং অনুপ্রবেশের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ইতিমধ্যেই মুম্বই এবং তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে বিজেপির এই অতি-সক্রিয়তাকে ঘিরে অশনি সংকেত দেখছে বিরোধী শিবির। মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাকপালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে ১০ পাতার একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, শুমারির কাজ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যেন একই আধিকারিকদের দিয়ে না করানো হয়, যাতে কোনও তাড়াহুড়ো বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ না থাকে।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু আজমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের সাহায্য করতে মুম্বইজুড়ে কয়েক ডজন সহায়তা কেন্দ্র খুলেছেন। আজমির অভিযোগ, ভোটার তালিকায় মুসলিম নামগুলোর বানান ভুল থাকা বা মারাঠি ভাষায় অনুবাদের সময় তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেকের নথি বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মনে করছেন। ২০০২ সালের পর মহারাষ্ট্রে ফের এই ধরণের নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা নিয়ে এই সংঘাত মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক ময়দানকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।















