আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিনেতা বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (টিভিকে) বৃহস্পতিবার রাতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি দুই দ্রাবিড় দলের (এম.কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং ই. পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে) কোনও একটি তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে তাদের দলের সব বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। সূত্রের খবব এমনই। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে শিবিরে দু'টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরপরই এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। বিজয় এখন সন্দেহ যে, এই দু'টি দল রাজ্যে সরকার গঠনের জন্য একে অপরের সঙ্গে আঁতাঁত করছে এবং জনগণের ভোটে সর্বাধিক সমর্থন পাওয়া টিভিকে-কে সরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।  

১০৮টি আসনে জয়ী হওয়া টিভিকে যুক্তি দিচ্ছে যে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে রাজ্যপালের উচিত তাদেরই সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো।

কিন্তু বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে, রাজ্যপাল আর.ভি. আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানানোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন যে, বিজয়ের কাছে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যা নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কোটা পূরণ করার জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, রাজ্যপাল সেটিও গ্রহণ করেননি। সূত্র জানিয়েছে, এই বৈঠকটি (গত দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক) রাজ্যপালের এই কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় যে, বিজয়কে অবশ্যই ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনের চিঠি জমা দিতে হবে।

রাজভবন থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, রাজ্যপাল "ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার গঠনের জন্য তামিলনাড়ু বিধানসভায় যে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন থাকা আবশ্যক, তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।"

সংখ্যাগরিষ্ঠতার কোটা পূরণ করতে টিভিকে-এর আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন এবং তাদের কাছে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সমর্থন রয়েছে। হাত শিবিরের কাছে ৫ জন বিধায়ক আছেন। অবশিষ্ট আসনগুলোর জন্য বামপন্থী দল এবং আরও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে টিভিকে-র আলোচনা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, বিজয় এখন আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ডিএমকে কি বিকল্প সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে?

বৃহস্পতিবার ডিএমকে একটি বৈঠক করে, যেখানে চারটি প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে দলের প্রধান এম.কে. স্ট্যালিনকে "জরুরি সিদ্ধান্ত" নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এই প্রস্তাবটি প্রসঙ্গে ডিএমকে জানিয়েছে, "আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল আরেকটি নির্বাচন এড়ানো, রাজ্যে একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ না দেওয়া।" সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবকে একটি "জটিল সংকট" হিসেবে অভিহিত করে, ডিএমকে-র সকল বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে, ডিএমকে-র শীর্ষস্থানীয় সূত্রগুলো এনডিটিভি-কে নিশ্চিত করেছে যে, এমন একটি পরিকল্পনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে যেখানে ডিএমকে-র 'বাইরের সমর্থন' নিয়ে ই. পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

ডিএমকে-র তরুণ নেতাদের একটি অংশ, (বিশেষ করে উদয়নিধি স্টালিনের শিবিরের নেতারা) আশঙ্কা করছেন যে, বিজয়  একবার ক্ষমতায় এলে তিনি এম.জি. রামচন্দ্রনের মতোই হয়ে উঠবেন এবং তখন তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। কিংবদন্তি এম.জি.আর. তাঁর জীবদ্দশা জুড়ে ডিএমকে-কে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের প্রবীণ নেতারা (যাদের মধ্যে এম.কে. স্টালিনও রয়েছেন) এখনও এই বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরীক্ষার বিষয়ে জনমনে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে দশকের পর দশক ধরে একে অপরের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়ে আসা দুটি দল হঠাৎ করেই একই নৌকায় সওয়ার হচ্ছে; তারা আশঙ্কা করছেন যে, এর ফলে জনগণের কাছ থেকে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা 'ব্যাকল্যাশ'-এর সম্মুখীন হতে হতে পারে।

'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ' নীতিতে এআইএডিএমকে

এআইএডিএমকে-ও প্রায় একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং তাদের বিধায়কদের পরিস্থিতি 'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ' করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের একটি অংশ টিভিকের সঙ্গে জোট গঠনের ব্যাপারে আগ্রহী হলেও, দলের প্রবীণ নেতারা কঠোরভাবে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিন  সন্ধ্যায় ৪৫ জনেরও বেশি বিধায়ক পালানিস্বামীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে পালানিস্বামী বিধায়কদের জানান যে, টিভিক এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে বর্তমানে কোনও সম্পর্ক নেই এবং এই মুহূর্তে অন্য দলের বিধায়ক 'ভেঙে আনার' কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এআইএডিএমকে তাদের বিধায়কদের শান্ত থাকার এবং আরও দু'দিন অপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্যপালের অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট রাজনৈতিক দলগুলি

রাজ্যপালের গৃহীত অবস্থান টিভিকের সম্ভাব্য 'বন্ধু'দলগুলিকেও অসন্তুষ্ট করেছে।

সিপিআই-এর তামিলনাড়ু শাখা রাজ্যপালের প্রতি সংবিধান মেনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, শপথ গ্রহণের আগেই বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেওয়া রাজ্যপালের জন্য "অনুপযুক্ত" পদক্ষেপ।

একটি বিবৃতিতে সিপিআই বলেছে, "একক বৃহত্তম দল হিসেবে, সংবিধান অনুযায়ী টিভিক-কে অবশ্যই বিধানসভার কক্ষে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিতে হবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এস.আর. বোম্মাই মামলা-সহ বেশ কয়েকটি রায়ে এই নীতিকে স্বীকৃতি ও অনুমোদন দিয়েছে।" 'বিধুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি' বা ভিসিকে-র প্রধান থোল থিরুমাভালাভান জানিয়েছেন, বিজয় সমর্থন চাইছেন কারণ তিনি রাজ্যে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন; তাই বিধানসভার কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পর তাঁকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, "রাজ্যপাল টিভিকে-কে সমর্থনকারী ব্যক্তিদের তালিকা দাবি করতে পারেন না। তিনি এমনটা বলতে পারেন না যে—আপনাকে কারা সমর্থন করছে? ১১৮ জনের সমর্থন নিয়ে এসে আমার কাছে তা প্রমাণ করুন, তারপর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসুন।"

টিভিকে-কে ডিএমকে-এর পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো হয়েছে। বিদায়ী দলটি রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তকে 'অগ্রহণযোগ্য' এবং জনগণের রায়ের প্রতি 'অবমাননা' হিসেবে দেখছে। কমল হাসানও বিজয়ের সমর্থনে সোচ্চার হয়েছেন।