আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী? এই পরিস্থিতি কোন ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ করছে, ব্যাখ্যায় বড় আশঙ্কার কথা বললেন বিশেষজ্ঞ। চেন্নাই-ভিত্তিক আর্থিক পরিকল্পনাকারী ডি মুথুকৃষ্ণান বলছেন, ভারতের অর্ধেক মানুষের কাছে পুঁজি হিসেবে অন্তত সাড়ে তিন লক্ষ টাকাও নেই। বিশ্বব্যাপী অবস্থাও সঙ্গীন। একমাসের বেতন না পেলে, বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবট দিয়ে ঘিরে থাকা বিশ্বে সম্পদ বৈষম্য দিনে দিনে কতটা প্রকট হবে, সেকথা বলেছেন তিনি।
শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অন্যান্য ধনী দেশগুলিতেও সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এবং প্রযুক্তিগত বিপর্যয় কোটি কোটি মানুষকে কোন বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, কঠোর বাস্তব আর গণিতের হিসেব দিয়ে বুঝিয়েছেন তা।
তথ্য, সুইজারল্যান্ডের মতো দেশে, দেশের ধনীতম এক শতাংশ মানুষ গোটা দেশের ৪৩ শতাংশ সম্পত্তির মালিক। পরের ৭ শতাংশের হাতে দেশের ৭০ শতাংশ সম্পত্তি। সুজাইল্যান্ডের হিসেব যথেষ্ট বিশ্বব্যাপী বৈষ্যমের উদাহরণ হিসেবে। সুজারল্যান্ড ধনীতম দেশ হলেও, মধ্যম সম্পদ, আর পরিসংখ্যানে স্পষ্ট দেশের বেশিরভাগ সুইস নাগরিকের সম্পত্তির পরিমাণ আদতে কতটা।
There are rich countries, but very less rich people in the world. Only around 1% of the world adult population owns more than $1 million ( Rs 8.6 crores).
— D.Muthukrishnan (@dmuthuk)
Not including primary residence, if your wealth is Rs.90 lakhs or more, you are richer than 50% of Singaporeans.
Likewise,… pic.twitter.com/mPpXKQyRFhTweet by @dmuthuk
মুথুকৃষ্ণান জানিয়েছেন, বিশ্বের মিডিয়ান ওয়েলথ অর্থাৎ মধ্যম সম্পদ ৮,৬৫৪ ডলার। বিশ্বের অর্ধেক মানুষের কাছে ব্যক্তিগত পুঁজি সাড়ে সাত লক্ষ টাকাও নেই। ভারতের ক্ষেত্রে মিডিয়াল ওয়েলথের পরিমাণ ৪হাজার ডলার। অথচ ভারতের অর্ধেক মানুষের কাছে ব্যক্তিগত পুঁজি হিসেবে সাড়ে তিন লক্ষ টাকাও নেই। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৪-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী সম্পদের বৈষম্য ঠিক কতটা প্রকট, সাধারণ মানুষের ধারণাই নেই সেই বিষয়ে।
একেবারে তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁর মত, যদি কারও বাসস্থান ব্যাতীত সম্পদের পরিমাণ ৯০ লক্ষের বেশি হয়, তাহলে তিনি সিঙ্গাপুরের ৫০ শতাংশ বাসিন্দার চেয়ে ধনী, কারও সম্পত্তির পরিমাণ বাসস্থান ব্যাতীত ৯৬ লক্ষের বেশি হলে, তিনি নিশ্চিন্তে আমেরিকার মতো ধনী দেশের ৫০ শতাংশ জনগণের চেয়ে এগিয়ে।
