আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির অভাব নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস (NSO)-এর জার্নাল ‘সার্ভেক্ষণ’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে যে, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাল উৎপাদন করছে না ভারত। শুধু ডালই নয়, শাকসবজি, শুকনো ফল (ড্রাই ফ্রুটস), দুধ এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারও ভারতীয়দের খাবার থালায় প্রয়োজনীয় পরিমাণে পৌঁছাচ্ছে না। ২০২২-২৩ সালের পারিবারিক ভোগব্যয় সমীক্ষার তথ্যের সঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন (ICMR-NIN)-এর নির্ধারিত ডায়েট চার্ট তুলনা করে এই আশঙ্কাজনক রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
ICMR-NIN-এর ২০২৪ সালের মে মাসে আপডেট করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন নিরামিষাশী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন অন্তত ৮৫ গ্রাম ডাল খাওয়া উচিত, যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ২.৫৫ কেজি। কিন্তু গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের একটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। মনিপুরের গ্রামীণ পরিবারগুলোতে মাসে মাত্র ০.৩৫ কেজি ডাল খাওয়া হয়, রাজস্থানে যা ০.৪৬ কেজি। হিমাচল প্রদেশ বা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মতো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা জায়গাগুলোতেও ডাল খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারিত চাহিদার মাত্র ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশের বেশি নয়। উদ্বেগের বিষয় হল, ভারতীয়রা যদি আইসিএমআর-এর নিয়ম মেনে ডাল খাওয়া শুরুও করেন, তবে বর্তমানের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সেই চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হবে।
ডাল ছাড়াও অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রেও চিত্রটা বিশেষ সুখকর নয়। শুকনো ফলের ক্ষেত্রে মাসিক মাথাপিছু ১.০৫ কেজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও বেশিরভাগ রাজ্যে এর পরিমাণ মাত্র ০.০৮ থেকে ০.২৫ কেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ। সবজির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশে উৎপাদনের পরিমাণ চাহিদার কাছাকাছি থাকলেও সাধারণ মানুষের পাতে তা সঠিক পরিমাণে পড়ছে না। নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তির মাসে ১২ কেজি সবজি খাওয়া উচিত, অথচ শহর হোক বা গ্রাম—কোনও এলাকাতেই এই হিসাব মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পুষ্টিহীনতা কাটাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। আইসিএমআর-এর ২০২৪ সালের গাইডলাইন সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং পুষ্টিকর খাবারের জোগান নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক গঠনে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।















