আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে চরম অচলাবস্থা।  কট্টরপন্থীদের ক্রমেই বাড়বাড়ন্ত। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার জেরে বড়সড় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হল৷ সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগেই ভারতের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। পাশাপাশি এও জানান হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের দূতাবাস ও অন্যান্য সব কেন্দ্রই খোলা থাকবে৷ 

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের পরিবারের সদস্যদের ফিরে আসতে বলা হয়েছে। তবে ঢাকার হাই কমিশন-সহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের ভারতীয় মিশনগুলো আগের মতোই খোলা থাকছে। একইসঙ্গে সেখানে কাজও চলছে। সাধারণত কোনও জায়গা চরম অস্থির বা বিপজ্জনক হয়ে উঠলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রসায়ন বদলেছে। বিশেষ করে গত ১২ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও বদলে যায়৷ বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি দুই দেশই তাদের দূতাবাসে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উগ্রপন্থীদের এই ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

নয়াদিল্লির দাবি, এই হিংসাকে ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’ বা ‘রাজনৈতিক গোলমাল’ বলে লঘু করে দেখানোর যে চেষ্টা ঢাকা করছে, তাতে অপরাধীরাই প্রশ্রয় পাচ্ছে। ফলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে।