আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিখোঁজ ছিলেন যুবক। পরে মৃতদেহ উদ্ধার হতেই সামনে এল পরকীয়া ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের হাড়হিম করা কাহিনি। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় শাদাব রজ্জাক তাম্বোলি নামে এক যুবককে খুনের অভিযোগে তাঁর স্ত্রী, তাঁর প্রেমিক এবং শ্যালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার পথে স্বামীকে কাঁটা মনে করেই এই খুনের পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত স্ত্রী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন শাদাব। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি নাসিকের চান্দভাড় এলাকার একটি নদীতে তাঁর দেহ ভাসতে দেখা যায়। শাদাবের দেহটি উদ্ধারের পর পুলিশ দেখে, খুনিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল।
জানা গিয়েছে, দেহ যাতে কোনওভাবেই জলের উপরে ভেসে না ওঠে, তার জন্য মৃতদেহের কোমর এবং উরুর সঙ্গে ভারী ডাম্বেল বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। হাত-পা বাঁধা ছিল নাইলনের দড়ি দিয়ে।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, শাদাবের স্ত্রী মুসকান তাম্বোলির সঙ্গে মানমাডের বাসিন্দা ঋষভ বর্মার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা দু’জনে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য পূরণেই মুসকান নিজের ভাই ও প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের ছক কষেন।
চান্দভাড় থানার পুলিশ এই ঘটনায় মুসকান-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকরা।
অন্যদিকে, লোকলজ্জার ভয় আর অন্য ধর্মে প্রেম। এই ছিল ভুল৷ এর জেরে নিজের মেয়েকেই বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল মা ও দাদার বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলায় ঘটেছে। সত্য সামনে আসতেই শিউরে উঠছে প্রতিবেশী থেকে পুলিশ- সকলেই। ১৯ বছরের তরুণী ফারজানার মৃত্যুকে প্রথমে তাঁর প্রেমিকের কীর্তি বলে চালানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন মা আফসানা ও দাদা আফসার।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছর অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যমে সুনীল যাদব নামে এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় গাজিপুরের বাসিন্দা ফারজানার। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুনীল তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। ফারজানা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গোলমাল শুরু হয়। অভিযোগ, বিয়ের কথা অস্বীকার করে গত আড়াই মাস আগে তরুণীর গর্ভপাত করান সুনীল। এর পরই ফারজানার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গোটা বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় তাঁর বাড়িতে।
মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার খবর পেয়ে মা ও দাদা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। কয়েক দিন সুনীলের আশ্রয়ে থাকার পর, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফতেপুর রেল স্টেশন থেকে অচেতন অবস্থায় ফারজানাকে উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ফারজানা বয়ান দেন যে, সুনীলই তাঁকে ভুল বুঝিয়ে গর্ভপাত করিয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে গিয়েছেন।
তদন্তকারীদের দাবি, গত ১ মার্চ রাতে যখন পুলিশি প্রক্রিয়া ও ডাক্তারি পরীক্ষা হওয়ার কথা, তখনই পরিবারের সদস্যরা ফারজানাকে এক প্রকার জোর করেই বাড়ি নিয়ে যান। অভিযোগ, ওই রাতেই গ্রামের এক নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে ফারজানাকে জোর করে বিষ খাওয়ান তাঁর মা ও দাদা। পরদিন সকালে মা আফসানা নিজেই পুলিশে খবর দিয়ে দাবি করেন, সুনীল বিষ খাইয়ে তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলেছে।
প্রাথমিক সন্দেহের তির সুনীলের দিকে থাকলেও, পুলিশি তদন্ত ও কললিস্ট খতিয়ে দেখতেই বদলে যায় গল্পের মোড়। ডিএসপি ব্রজমোহন রাই জানান, অভিযুক্ত মা ও দাদা জেরার মুখে স্বীকার করেছেন যে, সামাজিক সম্মানের ভয়েই তাঁরা ফারজানাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আসলে মা আফসানা ওই যুবকের জমিতেই কাজ করতেন। গ্রামে এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হওয়ায় তাঁরা লোক হাসানোর ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন।
আপাতত খুনের অভিযোগে মা ও দাদাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুনীলের বিরুদ্ধে ফারজানা যে অভিযোগ করেছিলেন, সেই মামলাটিও আইনি নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
