আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শিক্ষা রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজস্থানের কোটা এবার অর্জন করেছে আরও এক অনন্য সম্মান। দেশজুড়ে হাজারো শহর যানজট, সিগন্যাল নির্ভর ট্রাফিক ও দীর্ঘস্থায়ী জটের সমস্যায় ভুগলেও, কোটা হয়ে উঠেছে ভারতের প্রথম ‘সম্পূর্ণ সিগন্যাল-ফ্রি’ শহর। অর্থাৎ, শহরের কোথাও আর ট্রাফিক লাইট নেই—গাড়ি থামে না, সিগন্যালের অপেক্ষা নেই, যাত্রীরা পান নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের অভিজ্ঞতা।


কোটার আরবান ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (UIT) এই ব্যাপক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—শহরের ট্রাফিক যেন কোনো কারণেই থেমে না যায়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহরকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ইন্টারকানেক্টেড রিং রোড, যা গাড়িগুলোকে ব্যস্ত মোড় এড়িয়ে দ্রুতগতিতে চলার সুযোগ দেয়। আগে যেখানে যানজট ছিল নিয়মিত, এখন সেখানে চলাচল হয় নিরবচ্ছিন্নভাবে, ফলে কমে গেছে ভ্রমণ সময় এবং ট্রাফিক চাপ।


শহরের ব্যস্ততম মোড়গুলোতে তৈরি করা হয়েছে দেড়-দুই ডজনের বেশি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস—যা কোটা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নতুন মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের মাধ্যমে যানবাহন আর থেমে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। সিগন্যালের লাল-সবুজ অপেক্ষা ছাড়াই গাড়ি চলে যায় একদম সোজা পথে, গতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে।


এই সিগন্যাল-ফ্রি মডেল শুধু সময়ই বাঁচাচ্ছে না, বরং দুর্ঘটনার হারও কমিয়ে এনেছে। কারণ, অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটে মোড় বা সিগন্যাল পয়েন্টে, যেখানে যানবাহন থামে ও গতি পরিবর্তন করে। সিগন্যাল-নির্ভর ব্যবস্থা বাদ দেওয়ায় এসব গতি-পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে জ্বালানি খরচ, কারণ গাড়িকে বারবার ব্রেক বা আইডল মোডে অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাচ্ছে।


প্রতিদিন শহরজুড়ে যাতায়াত করে লাখ লাখ মানুষ, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় দেশের নানা প্রান্ত থেকে পড়তে আসা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। এত বিশাল দৈনিক চাপ সামলানোর পরও এখন কোটা শহরে স্টপেজ—অতীতের গল্প। যাত্রীরা জানাচ্ছেন—আগের তুলনায় যাতায়াত এখন অনেক সহজ, আর যানজট প্রায় নেই বললেই চলে।


কোটা এখন হয়ে উঠেছে মডেল সিটি, যার দিকে তাকিয়ে আছে ভারতের অন্যান্য শহর। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, পুনে বা দিল্লির মতো শহর যেখানে দৈনিক যানজটে সময় ও জ্বালানি নষ্ট হয়, সেখানে কোটা দেখিয়ে দিয়েছে—পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন এবং উপযুক্ত অবকাঠামোই পারে ট্রাফিক ব্যবস্থা বদলে দিতে।


কোটার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে শহর গড়ে তুললে সিগন্যাল-নির্ভর বিশৃঙ্খলার জায়গায় তৈরি করা যায় ‘নন-স্টপ’ ট্রাফিক সিস্টেম—যেখানে গাড়ি চলে বাধাহীন, যাত্রীরা পান স্বস্তির অনুভূতি, আর শহর পায় পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও আধুনিক চলাচলব্যবস্থা।
কোটা দেখিয়ে দিয়েছে—যেখানে ইচ্ছা, সেখানে সিগন্যাল ছাড়াই তৈরি করা যায় চলাচলের নতুন যুগ।