আবু হায়াত বিশ্বাস,
 দিল্লি

:‌ বাংলা, তামিলনাড়ুর ভোটের মুখে মহিলা সংরক্ষণ আইন নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের অধিবেশন। মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে বিরোধী শিবির সমর্থন জানালেও লোকসভায় আসন বৃদ্ধির কেন্দ্রের প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শিবির। বুধবার বিকেলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে ‘‌ইন্ডিয়া’ দলগুলির‌ নেতাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে তৃণমূল, আরজেজি, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা, এনসিপি, আপ সহ বিরোধী দলগুলির নেতারা যোগ দেন। আসন পুনর্বিন্যাসের ইস্যুতে সংসদে গোটা বিরোধী শিবির বিরোধিতা করবে বলে ঠিক হয়েছে। কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু কেন্দ্র যেভাবে তা কার্যকর করছে তার বিরুদ্ধে বিরোধীরা সংসদে লড়াই করবেন বলে জানান কংগ্রেস সভাপতি।
 কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, ‘মহিলা সংরক্ষণ বিলকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে মহিলা সংরক্ষণকে সমর্থন করে এসেছি–২০১০ সালে এবং আবারও ২০২৩ সালে, যখন সাংবিধানিক সংশোধনীটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল।’‌ মোদি সরকারের উদ্দেশে খাড়গের সাফ বক্তব্য, মহিলা সংরক্ষণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে সংশোধনীটি বাস্তবায়ন করতে হবে। লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস সঠিক ভাবে করা হচ্ছে না। সরকার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ছলচাতুরি করছে। এজন্য এই পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করা হবে।

 বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানান, সকল বিরোধী দল বর্তমান ৫৪৩ আসনের লোকসভা ক্ষমতার ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য এক–তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ চায়। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। জয়রাম জানান, বিরোধী শিবির আসন পুনর্বিন্যাসে বিধানের সম্পূর্ণ বিরোধী। লোকসভা ও রাজ্যসভার বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন তারা এবং এর বিরোধিতা করা হবে। জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা জানিয়েছেন যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০% বৃদ্ধি পাবে এবং এটি সমস্ত রাজ্যের ক্ষেত্রে আনুপাতিকভাবে প্রযোজ্য হবে–কিন্তু এটি বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাঁর দাবি, এই বিলটি দক্ষিণ ভারত, উত্তর–পশ্চিম ভারত এবং উত্তর–পূর্বের রাজ্যগুলির অনুপাত হ্রাস করবে। আনুপাতিকতার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিধানে এর কোনও উল্লেখ নেই। 
বুধবার সন্ধেয় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‌কংগ্রেস দল দ্ব্যর্থহীনভাবে মহিলা সংরক্ষণকে সমর্থন করে। ২০২৩ সালে সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস করেছে, এটি ইতিমধ্যেই আমাদের সংবিধানের অংশ। সরকার এখন যা প্রস্তাব করছে তার সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সংশোধনীটি হল সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের একটি প্রচেষ্টা।’‌ রাহুলের বক্তব্য, ‘‌জাতিগত জনগণনা তথ্য উপেক্ষা করে আমরা ওবিসি, দলিত এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ‘অন্যায় চুরি’ হতে দেব না। আমরা দক্ষিণ, উত্তর–পূর্ব, উত্তর–পশ্চিম এবং ছোট রাজ্যগুলোর সঙ্গেও অন্যায় আচরণ হতে দেব না।’‌