আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের চেনা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুব দ্রুত ভোলবদল করছে। অ্যানালগ বা পুরোনো ডিজিটাল মিটারের দিন ফুরিয়ে এখন জায়গা করে নিচ্ছে ‘স্মার্ট মিটার’।
2
17
এটি এমন এক আধুনিক যন্ত্র, যা প্রতি মুহূর্তে আপনি কতটা বিদ্যুৎ খরচ করছেন তা মেপে দেখে এবং সেই তথ্য সরাসরি পৌঁছে দেয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার কন্ট্রোল রুমে। প্রিপেইড স্মার্ট মিটারের ক্ষেত্রে আবার মোবাইলের মতো আগে রিচার্জ করতে হয়- টাকা ফুরোলেই ঘরের আলো-পাখা বন্ধ।
3
17
মূলত তিন ধাপে এই স্মার্ট মিটার ব্যবহৃত হয়৷
রিয়েল-টাইম নজরদারি: মিটারের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ভোল্টেজ এবং কারেন্টের ওঠানামা মেপে বিদ্যুতের নিখুঁত হিসেব রাখে।
4
17
তথ্য আদান-প্রদান: এতে রয়েছে ইন-বিল্ট ওয়্যারলেস প্রযুক্তি (যেমন ৪জি/৫জি বা জিগবি)। এর মাধ্যমে আপনার বাড়ির রিডিং সরাসরি চলে যায় বিদ্যুৎ সংস্থার সার্ভারে। কর্মীকে আর কষ্ট করে বাড়ি বাড়ি এসে রিডিং নিতে হয় না।
5
17
গ্রিড ও বিলিং বিশ্লেষণ: সার্ভারে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল তৈরি হয়। এর ফলে কোন সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা কেমন থাকছে, তাও সংস্থাগুলি সহজে বুঝতে পারে।
6
17
গ্রাহক ও সংস্থার লাভ কোথায়?
ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ: প্রতি মুহূর্তে কতটা বিদ্যুৎ পুড়ছে তা দেখা যায় বলে গ্রাহকেরা নিজেদের খরচ সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা যায় কোন যন্ত্রে বেশি বিল আসছে।
7
17
ভুল বিলের দিন শেষ: আগে অনেক সময় অনুমানের ভিত্তিতে ভুল বা কাল্পনিক বিল আসত। স্মার্ট মিটারে সেই আশঙ্কা নেই। যতটুকু খরচ, ঠিক ততটুকুরই বিল।
8
17
ঝামেলাহীন পরিষেবা: বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লাইনে কোনও সমস্যা হলে স্মার্ট মিটার নিজেই সংস্থাকে অ্যালার্ট পাঠায়। ফলে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
9
17
এর অসুবিধাও আছে৷ পকেটে বাড়তি কোপ: বহু গ্রাহকের দাবি, এই মিটার বসার পর থেকেই বিদ্যুতের বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। এনার্জি চার্জের পাশাপাশি মিটারের চড়া ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট যুক্ত হওয়ায় মাসের শেষে মধ্যবিত্তের মাথায় হাত পড়ছে।
10
17
ত্রুটিপূর্ণ রিডিংয়ের আশঙ্কা: নেদারল্যান্ডসের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৯টি ভিন্ন ধরনের স্মার্ট মিটারের মধ্যে ৭টিই ভুল রিডিং দিচ্ছিল- যা আসল খরচের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি।
11
17
ওভারলোড হলেই অন্ধকার: বাড়িতে অনুমোদিত ক্ষমতার চেয়ে সামান্য বেশি লোড পড়লেই এই মিটার নিজে থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়। প্রথমে অ্যালার্ট দিলেও, পরে টানা ৩০ মিনিটের জন্য ঘর অন্ধকার হয়ে যায়।
12
17
সুরক্ষা ও গোপনীয়তার অভাব: সবসময় ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই মিটার হ্যাক হওয়ার বা গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের একটা সাইবার ঝুঁকি থেকেই যায়।
13
17
স্মার্ট মিটার চালুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। পশ্চিমবঙ্গের দত্তপুকুরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা, আগে পোস্টপেইড মিটারে যা বিল আসত, এখন প্রিপেইড স্মার্ট মিটারে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা চলে যাচ্ছে।
14
17
একই ছবি দেখা গেছে হরিয়ানার গুরুগ্রামেও, যেখানে নতুন মিটার বসার পর এক মাসেই প্রিপেইড রিডিং নিয়ে ৬০টিরও বেশি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
15
17
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির লাভ যতটা নিশ্চিত, সাধারণ গ্রাহকের সুরাহা ততটা নয়। বিশেষ করে প্রিপেইড ব্যবস্থায় রিচার্জ শেষ হলেই যেভাবে বিদ্যুৎ চলে যায়, তা চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
16
17
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, পোস্টপেইড বিলেও প্রতি কিলোওয়াটে একটি নির্দিষ্ট 'ডিমান্ড চার্জ' থাকে। গ্রাহক যত বেশি ওয়াটের অনুমোদন নেবেন, সেই অনুযায়ী এই চার্জ বাড়ে, যা অনেকেই খেয়াল করেন না।
17
17
প্রযুক্তির আধুনিকীকরণকে স্বাগত জানানোই যায়, কিন্তু তা যেন সাধারণ মানুষের বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। স্মার্ট মিটারকে সত্যিই 'স্মার্ট' এবং জনবান্ধব করে তুলতে হলে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে।