নিতাই দে, আগরতলা: উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে ত্রিপুরায়। রাজ্যে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মিষ্টি আঙুর উৎপাদন হওয়ায় কৃষি বৈচিত্র্যকরণ ও বাণিজ্যিক ফলচাষের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই সাফল্যের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আরও ১৮টি আঙুরের জাতের পরীক্ষামূলক চাষ, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিতে চলেছে। 

ত্রিপুরার উনকোটি জেলার চণ্ডীপুরে  বাণিজ্যিক আঙুর চাষ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও নাবার্ড অর্থায়িত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি রাজ্যের প্রথম সফল মিষ্টি আঙুর বাগান পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদের মধ্যে কৃষিযন্ত্র বিতরণ করেন।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, দেশে আঙুরের গড় উৎপাদনশীলতা প্রতি হেক্টরে প্রায় ২৪ মেট্রিক টন। ত্রিপুরার আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা যাচাই করতে দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে চারটি আঙুরের জাত পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে, যার মধ্যে দুটি ওয়াইন উৎপাদনের জন্য উপযোগী।
তিনি জানান, প্রায় দুই দশক বিরতির পর ২০২৪ সালে উনকোটির কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে) পুনরায় আঙুর চাষ নিয়ে গবেষণা শুরু করে। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আইসিএআর-ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর গ্রেপস থেকে ছয়টি জাত এনে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা হয়। এরপর আঙুরের মিষ্টতা, ফলন এবং গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

তবে ত্রিপুরায় আঙুর চাষের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতিবৃষ্টি, উচ্চ আর্দ্রতা, পর্যাপ্ত মিষ্টতা অর্জনের সমস্যা, উপযুক্ত জাত নির্বাচন এবং কৃষকদের সীমিত অভিজ্ঞতা এই চাষের প্রসারে বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার আরও ১৮টি আঙুরের জাতের পরীক্ষামূলক চাষ করবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, আঙুরভিত্তিক ক্লাস্টার গঠন, নতুন বাগান স্থাপন, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আঙুরের রস ও রেডি-টু-সার্ভ (আরটিএস) পানীয় উৎপাদন এবং ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র জুস প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ইতিবাচক ফল অব্যাহত থাকলে ত্রিপুরা ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় আঙুর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এতে কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী টিংকু রায়, উদ্যানপালন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের কৃষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।