আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তি দিতে এবং বিমান সংস্থাগুলোকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তেল বিপণন সংস্থাগুলির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার এককালীন বাজেট সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর মূল্য স্থিতিশীল রাখার কাজে ব্যবহার করা হবে।

 

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অনুদান দাবির মাধ্যমে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে এই অর্থ সুদমুক্ত অগ্রিম হিসাবে দেওয়া হবে। মধ্য এশিয়ায় সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এটিএফ-এর দামে যে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ধাক্কা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে এটিএফ-এর দাম ছিল প্রতি লিটার ৬০.৫০ টাকা। মে মাসের মধ্যে তা প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ১৪২ টাকা। যেহেতু একটি বিমান সংস্থার পরিচালন খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানির পেছনে। তাই এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির উপর প্রচণ্ড আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছিল।

 

নয়া ব্যবস্থায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এটিএফ-এর দাম সরকার নির্ধারিত বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে বেশি হলে, তেল সংস্থাগুলির যে ক্ষতি হবে, তা এই ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে মেটানো যাবে। পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে, সেই বাড়তি টাকা তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকে উদ্ধার করে আবার ভারতের 'কনসোলিডেটেড ফান্ড'-এ ফেরত পাঠানো হবে।

 

এই ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও তেল বিপণন সংস্থাগুলির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যেখানে নাগরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক স্বাক্ষরকারী হিসাবে থাকবে। এই চুক্তির অধীনে অংশ নেওয়া বিমান সংস্থাগুলিকে আগামী সর্বোচ্চ তিন বছর বা অগ্রিম অর্থ সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত—শুধুমাত্র এই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকেই জ্বালানি কিনতে হবে। প্রতি বছর এই ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই মূল্য স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থার ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় অপারেশনের ক্ষেত্রেই লাভবান হবে। এর ফলে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে বিমান সংস্থাগুলি হুটহাট টিকিটের দাম বাড়াতে পারবে না। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভাড়া বৃদ্ধি থেকে রেহাই পাবেন।

 

লাভজনক রুটের পাশাপাশি দূরবর্তী এলাকা এবং দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলিতে বিমান যোগাযোগ সচল থাকবে। বিশেষ করে সরকারের 'উড়ান' প্রকল্পের অধীনস্থ বিমানবন্দরগুলির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক থাকলে বিমানবন্দর, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্সি, রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটন এবং লজিস্টিকস খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, রপ্তানি এবং পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে তদারকি করার জন্য নাগরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের 'মনিটরিং কমিটি' গঠন করা হয়েছে, যারা সমস্ত দাবি ও অর্থ আদায়ের অডিট সম্পন্ন করবে।