আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন টাকা তুলতে। কিন্তু ব্যাঙ্ক বন্ধ দেখেই হতাশ। এরপর এটিএমে গিয়ে ব্যাঙ্কে কত টাকা আছে, তা দেখার চেষ্টা করেন। ব্যাঙ্কের পাশবই আপডেট হতেই চক্ষু চড়কগাছ ছাপোষা, সাধারণ গৃহবধূর। রাতারাতি কোটিপতি হয়ে, নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। এরপরই নেন চরম সিদ্ধান্ত। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মেইনপুরী জেলায়। জানা গেছে, দেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রিতা। তাঁর স্বামী পেশায় কৃষক। চাষবাস করেই সংসার চলে তাঁদের। কোনও মতে খেতে পান। পরিবারের বাকিরাও চাষবাসের সঙ্গে জড়িত। 

 

দিন কয়েক আগেই, উৎসবের আবহে ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু উৎসবের কারণে স্থানীয় ব্যাঙ্ক সেদিন বন্ধ ছিল। হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন। বাড়ির কাছে হঠাৎ এটিএম-এ গিয়ে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দেখার চেষ্টা করেন তিনি। এটিএম-এ দেখা যায়, তাঁর ব্যাঙ্কে কয়েক কোটি টাকা আছে। যা দেখেই রীতিমতো থ হয়ে যান ওই গৃহবধূ। 

 

কেন্দ্রীয় এক ব্যাঙ্কে তাঁর অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দেখা গেছে, হঠাৎ তিনি ১০ কোটি টাকার মালিক। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা দেখেই ছুটতে ছুটতে বাড়িতে পৌঁছন রিতা। সবাইকে জানান বিষয়টি। যা শুনে রীতিমতো চমকে ওঠেন সকলে। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে না পেরে আবারও ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স চেক করেন তিনি। তখনও দেখা যায়, তাঁর ব্যাঙ্কে ১০ কোটি টাকা রয়েছে। 

 

রাতারাতি কোটিপতি হয়েও, উচ্ছ্বাস দেখাননি রিতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, 'এই টাকা আমার নয়। আমি এই টাকা ছুঁয়েও দেখব না।' এরপরই ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, ব্যাঙ্ক যেন এই টাকা ফিরিয়ে নেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর ওই ম্যানেজার জানান, টেকনিক্যাল ইস্যুতেই ভুলবশত ওই ১০ কোটি টাকা রিতার অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল। 

 

ব্যাঙ্কের এই ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ম্যানেজার জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে।‌ অন্যদিকে রিতা সততার নজির গড়েছেন। কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্কে দেখেও, একটাকাও চুপিসারে সরিয়ে নেননি। বরং নির্দিষ্ট জায়গায় টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। 

 

রিতার এই সৎ সাহস, এহেন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গ্রামবাসীরা। আশীর্বাদ করেছেন তাঁকে অনেকে। ঘটনাটি ঘিরে জেলাতেও জোর চর্চা হয়েছে।