আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছোটখাটো বিষয়েই গালিগালাজ। সামান্য কথা কাটাকাটির মধ্যেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভ্যাস এবার চিরতরে দূর করতে কড়া পদক্ষেপ। যা প্রযোজ্য আট থেকে আশি সকলের জন্যেই। 

গোটা গ্রামে এবার থেকে শালীনতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করা হল। গালিগালাজ করলেই জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জরিমানা দিতে না পারলে এক ঘণ্টা ধরে গ্রাম পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করতে হবে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এই নিয়মটি চালু হয়েছে মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার বরসার গ্রামে। জানা গেছে, কটুক্তি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলেই এবার থেকে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। গালিগালাজ করলেই ৫০০ টাকা জরিমানা নতুবা এক ঘণ্টা ধরে সাফাইয়ের কাজ করতেই হবে। 

সম্প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গোটা গ্রামে পোস্টার লাগানো হয়েছে। গ্রামের মধ্যে অশালীন আচরণ এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার জন্যেই এহেন পদক্ষেপ করা হয়েছে। 

পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিনোদ শিন্ডের কথায়, গত কয়েক বছরে এই গ্রামেই শুধুমাত্র বয়স্কদের মধ্যেই নয়, নাবালকদের মধ্যেও গালিগালাজ করার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। মহিলাদের লক্ষ্য করে কটুক্তি, অশ্লীল ইঙ্গিত, গালিগালাজ প্রায়ই শোনা যেত। এই ধরনের ঘটনা উত্তোরত্তর যাতে না ঘটে, সেই কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা জয়শ্রী জানিয়েছেন, 'জরিমানার পদক্ষেপ করার পর থেকেই সকলে এখন সতর্ক। আগে নিষেধ করার পরেও কমবয়সিরা গালিগালাজ করত। এখন আর গ্রামের মধ্যে অশ্লীল ভাষায় কেউ ঝগড়া করছেন না। এমনকী কথায় কথায় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার প্রবণতাও নেই।' 

ওই গ্রামেরই এক যুবক অশ্বিন পাটিল এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান ও উপ প্রধানকে।‌ এরপরই গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘ বৈঠক হয়। পঞ্চায়েতের এই পদক্ষেপের পর যারপরনাই খুশি গ্রামের মহিলারাও। দিন কয়েকের মধ্যেই সকলের মধ্যে গালিগালাজ করাও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।