আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর মাধ্যমে অসমের কাছাড় জেলার বাসিন্দা ৫৯ বছরের দীপালি দাস ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এক সময় তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই অভিযোগে প্রায় দুই বছর ডিটেনশন সেন্টারে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল, দীপালি দাসকে বিদেশি বলে ঘোষণা করে। তার পর ওই বছরের ১০ মে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে শিলচর ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। দীপালি দাসের আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রায় দুই বছর সেখানে ছিলেন। ২০২১ সালের ১৭ মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য সূত্র অনুযায়ী, আইনজীবী জানান, দীপালি দাসের জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলার ধিরাই থানার দিপপুর গ্রামে। ১৯৮৭ সালে তাঁর বিয়ে হয় বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার পরাই গ্রামের অভিমন্যু দাসের সঙ্গে। ২০১৩ সালে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ সেই সময় একটি তদন্ত চালায়। ওই মামলার তদন্তকারী ছিলেন আজমল হোসেন লস্কর।
২০১৩ সালের ২ জুলাই একটি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, দীপালি দাস বাংলাদেশের বানিয়াচং এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ ছিল, তিনি ১৯৭১ সালের মার্চের পরে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
অসমের আইনে বলা আছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে যারা অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছেন, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয়। পরে ওই চার্জশিটই সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০২১ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে দীপালি দাস সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে চান। যদিও ২০১৯ সালে আইনটি পাস হলেও, তা কার্যকর করার নিয়ম ২০২৪ জারি হয় সালে। ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়।
এই আইন নিয়ে দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের রাখা হয়নি বলে এই প্রতিবাদ দেশের নানান জায়গায় সংগঠিত হয়। অনেকেই বলেন, এতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের নিয়ম করা হয়েছে। বিশেষ করে অসমে বড় আকারে আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। কারণ অনেকের আশঙ্কা ছিল, এই আইনের ফলে বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে।
এই আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন ও পারসি ধর্মাবলম্বীরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সরকারের বক্তব্য, এই তিনটি দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে তারা ভারতে আশ্রয় নিলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত ছিল একটাই, তাঁদের ভারতে প্রবেশ করতে হবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে।
অসমে প্রায় দুই লক্ষ মানুষকে সন্দেহভাজন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মানুষ সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন।
