আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরের অন্যতম পরিচিত রেস্তোরাঁ চেন ‘প্যারাডাইস’-এর সেকেন্দ্রাবাদ শাখায় বিরিয়ানির প্লেটে চুল পাওয়া যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে নেমে বৃহত্তর হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (GHMC) হোটেলটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। পাশাপাশি এক সপ্তাহের মধ্যে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির ত্রুটি না মেটালে কড়া ব্যবস্থা—এমনকি সিজার (seizure)—করা হবে বলে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
জিএইচএমসি সূত্রে জানা গেছে, এক গ্রাহক বিরিয়ানি খাওয়ার সময় প্লেটে চুল দেখতে পান। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রেস্তোরাঁর কর্মীদের নজরে আনেন। অভিযোগ, কর্মীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। এমনকি কাস্টমার রিলেশনশিপ এক্সিকিউটিভও অভিযোগকে হালকাভাবে নেন। পরে ক্ষুব্ধ গ্রাহক সরাসরি জিএইচএমসি-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পরিদর্শনে যায় জিএইচএমসি-র দল। পরিদর্শনে গিয়ে রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পচা সবজি ব্যবহারের প্রমাণ এবং সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারের মতো একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ে বলে দাবি আধিকারিকদের। এর জেরে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অবিলম্বে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শহরের আর এক জনপ্রিয় খাদ্যসংস্থা ‘কেয়ার বাহার’-কেও একই পরিমাণ, অর্থাৎ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে জিএইচএমসি। অভিযোগ, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না, আবর্জনা আলাদা করা হয়নি এবং ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালানো হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, প্যারাডাইস ও কেয়ার বাহার—দু’টিই হায়দরাবাদের দ্রুত সম্প্রসারিত খাদ্য চেন। বিশেষ করে প্যারাডাইস বিরিয়ানি দেশ-বিদেশে খ্যাত। অতীতে শহরে সফরে এসে ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর এখানে চা-বিস্কুট খেয়েছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বিরিয়ানি চেখে দেখেছেন—এমন প্রচারও রয়েছে।
জিএইচএমসি-র বার্তা স্পষ্ট—স্বাস্থ্যবিধি ও নাগরিক নিয়ম লঙ্ঘনে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না। জনপ্রিয়তা বা ব্র্যান্ড ইমেজ নয়, গ্রাহকের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যই সর্বাগ্রে—এমনই ইঙ্গিত প্রশাসনের।
