আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়িতে বিড়াল পুষতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার তাতে রাজি হয়নি। বিড়াল পোষাকে কেন্দ্র করে অশান্তি চরমে। শেষমেশ নিজেকেই শেষ করলেন ২৩ বছরের তরুণী চিকিৎসক। তাঁর মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবারে শোকের ছায়া।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২৩ বছরের চিকিৎসকের নাম, প্রিন্সি ওরফে শ্রেষ্ঠা। হায়দরাবাদের আল ওয়ালে পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। ঘটনার দিন বাড়িতে এটাই ছিলেন তিনি।
পরিবারের তরফে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই বাড়িতে একটি বিড়াল নিয়ে এসেছিলেন শ্রেষ্ঠা। সেই বিড়ালটি আসার পর থেকেই সর্দিকাশিতে ভুগছিলেন তরুণী। বিড়ালের লোম থেকেই সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন সকলে। কিন্তু শ্রেষ্ঠা জানিয়েছিলেন, সেই বিড়ালটিই তিনি পুষবেন। কিন্তু পরিবার রাজি ছিল না। যা ঘিরে বহুবার অশান্তি, ঝামেলা হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মা ও ঠাকুমা বাইরে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরেই শ্রেষ্ঠার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান ঘরে। চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন তাঁরা। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তরুণীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রহস্যমৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সদ্য এমবিবিএস শেষ করেছেন শ্রেষ্ঠা। এমডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিড়াল খুব ভালবাসতেন।বাড়িতে বিড়াল পুষতে চেয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে অশান্তির পরেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে ঘর থেকে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক ঝামেলার জেরে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশের অনুমান।
গত নভেম্বরে পারিবারিক ঝামেলার কারণে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। পছন্দের মানুষকে তড়িঘড়ি বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল। প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি চেয়েছিলেন শীঘ্রই। কিন্তু পরিবার রাজি ছিল না। আরও বছর দুই অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। তাতেই বাড়ে মানসিক চাপ, অস্থিরতা। সহ্য করতে না পেরে ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটান এক তরুণ। বিয়ের তাড়ায় ১৯ বছর বয়সে আত্মঘাতী হন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানে জেলায়। মঙ্গলবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ বিয়ের তাড়ায় আত্মঘাতী হন। পরিবারের তরফে ১৯ বছর বয়সে বিয়ের জন্য আপত্তি জানিয়েছিল। আরও দু'বছর অপেক্ষা করতে বলেছিল তাঁকে। ২১ বছর হলেই বিয়ের কথা বলেছিল পরিবার। দু'বছর বিয়ে পিছিয়ে যেতেই আত্মঘাতী হন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ৩০ নভেম্বর দম্বিভলি এলাকায়। তরুণ আদতে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ছিলেন। ওই এলাকারই এক তরুণীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। তাঁকেই বিয়ের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারকে সে কথাও জানান। কিন্তু পরিবারের তরফে জানানো হয়, আইন অনুযায়ী ২১ বছর না হলে তিনি বিয়ে করতে পারবেন না। তাই আরও দু'বছর অপেক্ষা করার কথা জানান।
সোমবার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ঘরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তরুণ। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
