আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরির টোপ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হত নামী পাবে৷ হোটেলে৷ চলত অশ্লীল কাজ। একের পর এক তরুণীদের দেহব্যবসায় নামানো এবং জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগে উত্তাল ভোপাল। দুই বোনসহ এক বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। আমরিন ও আফরিন নামে দুই বোন, তাঁদের ভাই জামাল এবং সঙ্গী চন্দন যাদবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জান্নাত ও ইয়াসির নামে দুই অভিযুক্ত এখনও ফেরার।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের শিকার মূলত দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা। মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন আর বিলাসবহুল জীবনের লোভ দেখিয়ে তাঁদের ফাঁদে ফেলত দুই বোন। অভিযোগ, ভোপালের বস্তি এলাকায় থাকা এই বোনেরা রাতারাতি শহরের এক দামী ভিলা-তে থাকতে শুরু করেন। তদন্তকারীদের অনুমান, অসহায় মেয়েদের ফাঁদে ফেলেই এই বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন তাঁরা।

নির্যাতিতাদের দাবি, চাকরির বদলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হত বিভিন্ন পাব ও নামী পার্টিতে। সেখানে তাঁদের জোর করে মাদক ও সুরা খাইয়ে প্রভাবশালী পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা করতে বাধ্য করা হত। এক বিউটিশিয়ানের অভিযোগ, কাজের নাম করে তাঁকে আমদাবাদে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। অন্য এক তরুণীকে ভয় দেখানো হয়েছিল, মুখ খুললে তাঁর আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ঘটনায় দানা বেঁধেছে ধর্মান্তকরণের বিতর্কও। এক অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। এমনকী তাঁকে বোরখা পরা ও নমাজ পড়ার জন্য চাপ দেওয়া হত বলেও এফআইআর-এ উল্লেখ রয়েছে।

অভিযুক্তদের মোবাইল ঘেঁটে বহু তরুণীর ছবি ও রহস্যময় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হদিস পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই জাল মধ্যপ্রদেশ ছাড়িয়ে গুজরাট ও মুম্বই পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে টাকার লেনদেন ও ডিজিটাল তথ্যের সূত্র ধরে চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে চাইছে পুলিশ।