আজকাল ওয়েবডেস্ক: রথযাত্রার আর দু'মাসও বাকি নেই। জগন্নাথ দেবের উৎসবের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ওড়িশা সরকারের প্রশাসনিক তৎপরতা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা, পরিবহন, স্বাস্থ্য এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছে প্রশাসন। তৈরি করা হয়েছে একটি নিশ্ছিদ্র অ্যাকশন প্ল্যান। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতির মাঝেই পুণ্যার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে পুরীর হোটেল এবং লজিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি। এই মুহূর্তে এটিই সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।

 

আগামী ২৯ জুন দেবস্নান পূর্ণিমা এবং ১৬ জুলাই মূল রথযাত্রা উৎসব ঘিরে তোড়জোড় ওড়িশায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরীর জগন্নাথধামে প্রায় ৭০০টি হোটেল এবং প্রায় ২০০টি হোমস্টে রয়েছে। কিন্তু উৎসবের এখনও বেশ কিছুদিন বাকি। তার আগেই অনলাইন বুকিং সাইটগুলিতে প্রায় সমস্ত হোটেলই 'হাউসফুল' দেখাচ্ছে। ফলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমস্ত ভক্তরা জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় শামিল হতে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

 

ভক্তদের অভিযোগ, প্রতি বছরই রথযাত্রার মরশুমে পুরীর হোটেল মালিকদের একাংশ কৃত্রিম ভাবে সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করেন। যার ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ে। বছরের অন্য সময়ে যে সমস্ত ঘরের ভাড়া সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, উৎসবের দিনগুলিতে তা একলাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, এবার রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বহু হোটেল ও হোমস্টেতে দৈনিক ভাড়া ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা বা তারও বেশি দাবি করা হচ্ছে। যেখানে একসময়ে সাধারণ মানের হোটেল বা ধর্মশালাগুলোর ভাড়া ছিল দৈনিক ১০০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০০ টাকা। বেসরকারি হোটেলের সর্বাধিক ভাড়াও বেড়ে হয়েছে দৈনিক ৮০০০ টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা।

 

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার পুরীতে প্রায় তিন গুণ বেশি ভক্তের সমাগম হতে পারে। অভিযোগ, এই বিপুল চাহিদাকে হাতিয়ার করেই কি হোটেল বুকিং ওয়েবসাইট এবং ব্যক্তিগত আবাসন কর্তৃপক্ষগুলি একচেটিয়া ব্যবসা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, সত্যিই যদি সমস্ত ঘর ভাড়া হয়ে গিয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এর সঠিক তদন্ত করা

 

রথযাত্রায় এসে যাতে কোনও ভক্তকে হেনস্থার শিকার হতে না হয়, তার জন্য ওড়িশা সরকারের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অনলাইন ও অফলাইন হোটেল বুকিং ব্যবস্থার ওপর সরকারি নজরদারি চালানো হোক। বুকিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন দ্রুত তদন্তে নামুক। বাইরে থেকে আসা ভক্তদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সুলভ ও নিরাপদ বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।