আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাজ্য রাজধানী সিমলা ও সংলগ্ন উঁচু পার্বত্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাতের পরই পর্যটকদের অপ্রত্যাশিত ভিড় দেখা গিয়েছে।

শনিবার সিমলায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও প্রচুর পরিমাণে বরফ পড়েছে। সে কারণে, রাস্তায় বিপুল পরিমাণে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। বিশেষ করে কুফরি ও তার আশপাশের এলাকায় এদিন সকালের তুষারপাত পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

চণ্ডীগড়, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও দিল্লি থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সিমলা ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে সপ্তাহান্তে পর্যটন শিল্পে ব্যস্ততা বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন হোটেল মালিকরাও।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কুফরিতে প্রায় ২ ফুট তুষারপাত হয়েছে। যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। সিমলায় তুষারপাত হয়েছে ২৭ সেন্টিমিটার, মানালিতে ৪৫.৮ সেন্টিমিটার এবং কিন্নৌর জেলার কোঠিতে সর্বাধিক ১০৫ সেন্টিমিটার তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে প্রশাসনের তরফে চণ্ডীগড়ের দিক থেকে কুফরির উদ্দেশে যাত্রা করা গাড়িচালকদের সতর্ক করা হয়েছে। যানজট ও শহরের ভিতরের সরু রাস্তার কারণে সিমলা শহরে প্রবেশ না করে নিউ-আইএসবিটি টুটিকান্দি হয়ে সিমলা বাইপাস ব্যবহার করে সরাসরি কুফরিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, তুষারপাত সত্ত্বেও পাঁচ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রয়েছে। এনএইচএআই কালকা–সিমলা প্রকল্পের ডিরেক্টর আনন্দ ধাইয়া বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত পাঁচ নম্বর জাতীয় সড়কে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। তবে শুক্রবারের ভারী তুষারপাতের কারণে ধালি–ভাট্টাকুফফার রাস্তাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে সিমলা শহরের আবহাওয়া একেবারেই পরিষ্কার।’

তবে হোটেল মালিকরা পর্যটকদের আগমনে আশাবাদী। জানা যাচ্ছে, সপ্তাহান্তে পর্যটকদের ভিড়ের জেরে সিমলায় হোটেলগুলি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পূর্ণ থাকতে পারে।

তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও নাগরিকদের পরিকাঠামোর ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হোটেল মালিকরা। বিদ্যুৎ পরিষেবা ও রাস্তার কাঠামো নিয়ে বিশেষভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

সিমলা হোটেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিন্দর শেঠ জানান, সিমলায় হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্ট হাউস মিলিয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিকাঠামোগত সুবিধা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। পর্যটকদের পরিষেবা দিতে জেনারেটর চালাতে প্রায় ১০ হাজার টাকা ডিজেলে খরচ করতে হয়েছে।’

হোটেল মালিকদের মতে, শীতকালীন পর্যটনের মরশুমে তুষারপাত স্বাভাবিক ঘটনা। সে কারণে প্রশাসনের আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সরবরাহ, সময়মতো তুষার সরিয়ে রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।