আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভরা ক্লাসরুম। এদিকে বইখাতা সব গুটিয়ে রেখেছে পড়ুয়ারা। কেন? স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশ, তাঁর পিঠ টিপে দিতে হবে। প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশ পেয়েই পড়াশোনা বাদ দিতে তাঁর পিঠে মাসাজ করতে দেখা গেল একাধিক ছাত্রীকে। ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। চিত্রকূট জেলার কারভি এলাকায় এক সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রাধান শিক্ষিকা ছাত্রীদের নির্দেশ দেন, তাঁর গায়ে, পিঠে মাসাজ করে দেওয়ার জন্য। এই ঘটনার ভিডিওটি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্লাসরুমের মধ্যে শুয়ে আছেন প্রধান শিক্ষিকা। কয়েকজন ছাত্রী তাঁর পিঠে মাসাজ করে দিচ্ছে। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বেসিক শিক্ষা অধিকারী (বিএসএ) কর্মীদের তদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ওই স্কুলের পরিকাঠামো, পড়াশোনার মান, স্কুলের সমস্ত খুঁটিনাটি পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শুরুর পরেই ওই প্রধান শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করেছে শিক্ষা দপ্তর। প্রাথমিক তদন্তের পর শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের পিঠে মাসাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই প্রধান শিক্ষিকাই। যদিও সাসপেন্ড করার পরেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো হয়েছে। বাস্তবে ক্লাস চলাকালীন তিনি এমনটি নির্দেশ দেননি।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। স্কুল যেন আরাম আয়েশ করার জায়গা। ক্লাসরুমে বসে পড়ানোর বদলে চেয়ারে পা তুলে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এক শিক্ষিকা। আরেক চেয়ারে পা তুলে ছাত্রকে টিপে দিতে বলেন। যে মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল রাজ্য জুড়ে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। ভোপালের মহাত্মা গান্ধী হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলের এক শিক্ষিকা ক্লাসে বসেই ছাত্রদের পা টিপে দিতে বলেন। প্রথম কিছুক্ষণ আরাম করে চেয়ারে বসে বিষয়টি উপভোগ করছিলেন। কিন্তু কেউ ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করছে টের পেয়েই পা সরিয়ে নেন।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ওই স্কুলের একাধিক ক্লাসরুমে কোনও বেঞ্চ নেই। পড়ুয়ারা মেঝেতে বসেই ক্লাস করে। অন্যদিকে শিক্ষিকা ও শিক্ষকদের জন্য চেয়ার, টেবিলের ব্যবস্থা রয়েছে। পড়ুয়ারা মাটিতে বসে ক্লাস করলেও, শিক্ষিকারা চেয়ারেই বসে থাকেন।
ভরা ক্লাসরুমেই ওই শিক্ষিকা চেয়ারে বসে পা তুলে দেন আরেকটি চেয়ারে। এরপর এক ছাত্রকে ডেকে পা টিপে দিতে বলেন। কিন্তু কেউ ভিডিও রেকর্ড করছেন টের পেয়েই পা নামিয়ে রাখেন চেয়ার থেকে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, লাঞ্চ ব্রেকের পর বাকি সব ক্লাসের পড়ুয়ারাই চুপচাপ ক্লাসরুমে পড়াশোনা করছিল। শুধুমাত্র চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ারা চেঁচামেচি করছিল।
এই চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুমেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। মাটিতে বসেই ক্লাস করছিল তারা। সেই ক্লাসরুমের এক পড়ুয়াকেই শিক্ষিকার পা টিপে দিতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা পড়তেই, ওই শিক্ষিকা জানান, তাঁর পায়ে যন্ত্রণা করছিল। তাই এক পড়ুয়া এসে দেখছিল কী হয়েছে। জেলা শিক্ষা আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁকে জানানো হয়েছে, শিক্ষিকা পায়ে চোট পান। সেটিই দেখতে গিয়েছিল ওই পড়ুয়া। বাকি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে নেটিজেনরাও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
