আজকাল ওয়েবডেস্ক: নার্সারিতে বেড়েছে ফি। মাথায় হাত পড়েছে অভিভাবকদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অভিভাবক তাঁর সন্তানের ফি কাঠামো পোস্ট করেছেন। বছরে তিন বার যে অর্থ নার্সারিতে দিতে হচ্ছে তা রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি পোস্ট করেছেন পূজা সেতিয়া। তিনি একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টে তিনি বলেছেন, তাঁর সন্তান এখন নার্সারিতে পড়ে। লেখাপড়া সবে শুরু হয়েছে তার। এখনই প্রতি তিন মাসে ফি দাঁড়িয়েছে ১.২৪ লাখ। মহিলা স্কুলের সেই টাকার স্ক্রিনশট পোস্ট করে লেখেন, ‘এই স্ক্রিনশটটা মোটেই মজা করার জন্য পোস্ট করছি না। আমার সন্তানের স্কুলের তিন মাসের ফি এটি। নার্সারিতে পড়ে সে’। 

পোস্টে স্পস্ট দেখা যাচ্ছে তিন মাসের খরচ সব মিলিয়ে ১,২৪,৭৮০ টাকা। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর আর জানুয়ারি থেকে মার্চে ভাগ করা হয়েছে বছরকে। এই তিনবারেই দিতে হবে প্রায় ১.২৪ লক্ষ করে। পোস্টে আরও বলা হয়েছে গত ২৮ মার্চ ১,২২,০২৭ টাকা দেওয়া হয়েছে। 


পোস্টের ক্যাপশনে মহিলা মজা করে লেখেন, তাঁর সন্তানকে তিনি বাড়িতে লেখাপড়া শিখিয়ে এই টাকাটা এসআইপি বা মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করবেন। তাঁর কথায়, ‘এভাবে অন্তত আমি নিশ্চিত হব যে আমার সন্তান যখন স্নাতক হবে তখন ওর কাছে একটা মোটা অঙ্কের টাকা থাকবে’। এই পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন। অনেকেই এই অতিরিক্ত ফি’‌র সমালোচনা করেছেন। 

একজন মন্তব্য করেন, ‘এই তিন মাসের নার্সারির ফি–তে আমি আমার গোটা স্নাতক ও তারপরের লেখাপড়াও করে ফেলেছিলাম। তাও আবার সফটওয়্যারের একটা কোর্স করেছি আমি’। আবার অনেকের বক্তব্য, ‘আপনাদের কাছে অন্যান্য অপশনও রয়েছে তো। অনেক কম খরচের স্কুল রয়েছে। আসলে আমাদের একটা স্বভাব হল, সমাজকে সন্তুষ্ট করা আর নকল সাফল্য উৎযাপন করা। কেউ তো আপনাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখেনি। অত ফি না দিতে চাইলে অন্য অপশন বেছে নিন’। 

তবে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন একেবারে অন্য বিষয়ে। তাঁদের কথায় স্কুল শুধু লেখাপড়া শেখায় তাই নয়। তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু দিয়ে থাকে। সামাজিকতা শেখায়, বন্ধুত্বের অর্থ তুলে ধরে, সম্পর্ক কীভাবে গড়ে তুলতে হয় ও ধরে রাখতে হয় তাও শেখায়।