আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে শরীর বের করে ‘স্টান্ট’ দেখানোর অভিযোগে অবশেষে মামলা রুজু করল পুলিশ। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, গুরুগ্রামের সোহনা রোডে সিগনেচার গ্লোবাল দাকসিন ভিস্তার সামনের রাস্তায় গত সোমবার এই ঘটনাটি ঘটে। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে তিন যুবক বিপজ্জনকভাবে বাইরে ঝুলে রয়েছেন, আর চালক গাড়িটিকে মাঝরাস্তায় গোল করে ঘোরাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভন্ডসি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার জেরে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "উপযুক্ত অ্যাক্ট অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অভিযুক্তদের শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।"
১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে যুবকদের অদ্ভুত সব কথাবার্তাও শোনা গিয়েছে। একজনকে বলতে শোনা যায়, "তুমি স্কুলের টপার," যার জবাবে অন্যজন বলে ওঠে, "আমরা স্কুলের সেই সব 'রেস্ট্রিক্টেড বয়েজ'"। দেখা গিয়েছে, চালক নিজেই এক হাতে ফোন ধরে ভিডিওটি করছিলেন।
প্রসঙ্গত, ইদানীং গুরুগ্রাম এলাকায় এই ধরণের বেপরোয়া স্টান্টের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাত্র দু’দিন আগেই দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি মহিন্দ্রা থার গাড়ির এমনই এক বিপজ্জনক কীর্তির ভিডিও সামনে এসেছিল। একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
অন্যদিকে, রাজস্থানের কোটায় যেন হুবহু সিনেমার চিত্রনাট্য! গৃহস্থের বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে রান্নাঘরের একজস্ট ফ্যানের গর্তে আটকে পড়লেন এক চোর। পা থেকে কোমর পর্যন্ত ভেতরে, বাকিটা বাইরে- এই অবস্থায় প্রায় ঘণ্টাখানেক অসহায় ভাবে ঝুলে থাকতে হল তাঁকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি সুভাষকুমার রাওয়াত তাঁর পরিবার নিয়ে বাইরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। খাটুশ্যামজি ভ্রমণে গিয়েছিলেন সপরিবারে৷ ৪ জানুয়ারি রাত ১টা নাগাদ তাঁরা যখন বাড়ি ফেরেন, তখন সদর দরজায় স্কুটারের হেডলাইটের আলো পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ রাওয়াত দম্পতির। তাঁরা দেখেন, রান্নাঘরের দেওয়ালের একজস্ট ফ্যানের ফাঁকে অদ্ভুত ভাবে আটকে রয়েছেন এক ব্যক্তি।
পুলিশ সূত্রের খবর, চুরির মতলবেই ওই ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একজস্ট ফ্যানের সরু গর্ত দিয়ে গলতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। কোমর অবধি ঢোকার পর তিনি সেখানে এমন ভাবে আটকে যান যে, আর নড়ার উপায় ছিল না। বাড়ির মালিকের আসার শব্দ পেয়ে তাঁর সঙ্গী তাঁকে ফেলে রেখেই চম্পট দেয়।
চিৎকার-চেঁচামেচিতে পাড়া-প্রতিবেশীরা জড়ো হন বাড়িতে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই টানটান নাটক। পরে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছে, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে ওই চোরেরা পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি নিয়ে এসেছিল। পলাতক সঙ্গীর খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই চক্রটি এলাকার আর কোনও চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
