আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ চার বছরের আইনি লড়াইয়ে ইতি। গুলমার্গের জমি লিজ সংক্রান্ত মামলাটি বন্ধ করে দিল জম্মু ও কাশ্মীর হাই কোর্ট। শেষ মুহূর্তে হোটেল ব্যবসায়ীরা নিজেরাই তাঁদের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। আইনি লড়াইয়ের বদলে এখন সরকারের সঙ্গেই আলোচনার মাধ্যমে রফাসূত্র খুঁজতে চাইছেন তাঁরা।

ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র গুলমার্গ। সেখানকার হোটেল মালিকদের মাথায় এখন কার্যত ‘দুমোক্লিসের তলোয়ার’ ঝুলছে। ২০২২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন জারির পর জমি আইনে বড়সড় বদল আনা হয়। নতুন এই নিয়মে লিজের মেয়াদ ফুরোলে তা নিজে থেকে বাড়িয়ে নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে লিজ শেষ হয়ে যাওয়া হোটেলগুলি এখন সরকারি উচ্ছেদ বা প্রকাশ্য নিলামের মুখে দাঁড়িয়ে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, গুলমার্গের প্রায় সব ক’টি হোটেলেরই লিজের মেয়াদ শেষ। ২০২২ সালেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, লিজ শেষ হওয়া জমি সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় জোর করে উচ্ছেদ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর যখন রায় আসার আগের মুহূর্ত, তখনই আবেদনকারীদের আইনজীবী জাফর আহমেদ শাহ পিটিশন প্রত্যাহারের আবেদন জানান। সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল মহসিন কাদরি এতে আপত্তি জানাননি। তিনি আদালতকে বলেন, সরকার একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায়ীরা আবেদন জানালে সরকার তাঁদের বক্তব্য শুনবে।

প্রধান বিচারপতি অরুণ পাল্লি ও বিচারপতি রজনীশ অসওয়ালের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি নিষ্পত্তির অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যেহেতু দুই পক্ষই এখন আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিবাদ মেটাতে চাইছে, তাই নতুন করে মামলার গুণাগুণ বিচারের প্রয়োজন নেই।  এই মামলায় আদালতের অনেকটা মূল্যবান সময় ব্যয় হয়েছে।

আইনি প্যাঁচে না জড়িয়ে ব্যবসায়ীরা এখন সরকারি স্তরেই সমঝোতার আশা করছেন। গুলমার্গের পর্যটন ব্যবসায় যে অনিশ্চয়তার মেঘ দেখা দিয়েছিল, আলোচনার টেবিলে তার জট কতটা কাটবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।