আজকাল ওয়েবডেস্ক: রং খেলতে গিয়েই অঘটন। ঠাকুমাকে দেখেই জল রঙের পিচকিরি নিয়ে ছুটে আসছিল এক শিশু। রং ছোড়ার চেষ্টা করতেই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটালেন ওই মহিলা। শিশুটির গায়ে ঢেলে দিলেন ফুটন্ত গরম জল। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকালে হোলিতেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। সকালে ঠাকুমাকে জলরং ছুড়তে গিয়েছিল চার বছরের এক শিশু। রং দেওয়ার চেষ্টা করাতেই রাগে ফুঁসতে থাকেন ঠাকুমা। তখনই ফুটন্ত জল এনে শিশুর গায়ে ঢেলে দেন তিনি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, চার বছরের ওই শিশু গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হোলির সকালে আপনমনে রং খেলায় মেতে উঠেছিল চার বছরের ওই শিশু। হঠাৎ ঠাকুমাকে দেখেই জল রঙের পিচকিরি নিয়ে ছুটে আসে শিশুটি।
সিন্ধু ঠাকরে নামের ওই মহিলার হাতে তখন ফুটন্ত গরম জলের বালতি ছিল। রং লাগানোর চেষ্টা করতেই শিশুর গায়ে ফুটন্ত গরম জল ছুড়ে মারেন তিনি। ঘটনাটি দেখেই পাশের এক মহিলা ছুটে এসে শিশুটির গায়ে ঠান্ডা জল ঢালতে শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে অঘটন ঘটে গেছে। শিশুটির কোমর থেকে পা পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে ওই শিশু। তার বাড়ি থেকেও লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গত বছর দোলের আবহে আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। হোলির আগেরদিন থেকেই হুল্লোড় শুরু। রং খেলার পাশাপাশি গাঁক গাঁক করে ডিজে বাজিয়ে ফূর্তি করছিল একদল ছেলে। এদিকে দিন কয়েক পরেই স্কুলে পরীক্ষা। অতিরিক্ত আওয়াজের জন্য পড়াশুনাও করতে পারছিল না পড়ুয়ারা। ডিজের সাউন্ড খানিকটা কমানোর জন্য অনুরোধ করতেই বৃদ্ধের উপর হামলা। শেষমেশ পিটিয়ে খুন করা হয় তাঁকে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশের মৈহার জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সি মুন্না রামনগর থানার অন্তর্গত মনকিশোর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। হোলির পার্টিতে ডিজের সাউন্ড কমানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তার জেরেই পিটিয়ে খুন করা হয় তাঁকে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেদিন রাতে দীপক ও তার বন্ধুবান্ধব ডিজে চালিয়ে পার্টিতে মজে ছিল। এদিকে সামনেই স্কুলে পরীক্ষা। ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারছিল না প্রতিবেশীদের পড়ুয়ারা। দীপকদের ডিজের আওয়াজ কমাতে বলেছিলেন শঙ্কর। সামান্য বচসার পর শঙ্করের পরিবারের উপর হামলা চালায় দীপক ও তার বন্ধুরা। মারধর করা হয় মুন্না নামের বৃদ্ধের উপরেও।
মারধরের পর ঘরে লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই পাঁচজনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
