আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক গ্রামপ্রধান খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত গ্যাংস্টার পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই অ্যাকশন। মঙ্গলবার তরণ তারন জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় হরনূর সিং নামে ওই দুষ্কৃতীর।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত রবিবার অমৃতসরে একটি বিয়ে বাড়িতে আম আদমি পার্টির নেতা তথা সরপঞ্চ ঝরমল সিংকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের ছক কষেছিল এই হরনূর। মঙ্গলবার তরণ তারনের ভিখিওয়াইন্ড এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ একটি নম্বর প্লেটহীন মোটরসাইকেলকে আটকানোর চেষ্টা করে। তখনই পুলিশকে লক্ষ্য করে হরনূর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলিতে জখম হয় সে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিআইজি স্নেহ দীপ শর্মা জানান, "অভিযুক্তের চালানো গুলি এক পুলিশকর্মীর গায়ে লাগলেও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকায় তিনি রক্ষা পান।" ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রবিবার বিয়ের আসরে দুই আততায়ী মুখ না ঢেকেই ঢুকে ঝরমলকে গুলি করেছিল।

সরপঞ্চ খুনের ঘটনায় বিরোধীরা সরকারের সমালোচনা করলেও আম আদমি পার্টির দাবি, পাঞ্জাব পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাজ্যে কড়া প্রশাসন বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, একটি নয়, দুটো নয় সাতটি খুন! এতগুলি প্রাণ শেষ করে কলকাতায় গা ঢাকা গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার। রাজপথে অন্য একজনের পরিচয়ে অ্যাপ বাইক চালাচ্ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। দিল্লি ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার তাঁকে রিপন স্ট্রিট থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত গ্যাংস্টারের নাম মহম্মদ সোহরাব। বয়স ৩৮ বছর। উত্তরপ্রদেশের লখনইয়ের বাসিন্দা। চলতি বছরের জুন মাস থেকে একটি অ্যাপ বাইক সংস্থায় বাইক চালাত সোহরাব। প্রায় ২০টি মামলায় অভিযুক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহরাব। দিল্লিতে তিহার জেলে জেলবন্দি ছিল। জুন মাসে প্যারলে মুক্তি পেয়েই গা ঢাকা দেয় সে। এরপরেই কলকাতায় এসে গা ঢাকা দেয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, সোহরাবরা তিন ভাই মিলে একটি গ্যাং চালাত। ২০০০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং খুনের অভিযোগ ওঠে। ২০০৫ সালে ইদের দিন এক ঘণ্টার মধ্যে তিনটি খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। ২০১১ সালে দিল্লিতে একটি সোনার দোকানে লুট এবং খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় সোহরাব ও তাঁর ভাইকে। দু’জনকেই যাবজ্জীবন সাজা দেয় দিল্লি আদালত। তার পর থেকে তিহাড় জেলে ছিল সোহরাব।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাত দিনের প্যারলে মুক্তি পেয়ে সোহরাব উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে আসে এবং সেখান থেকে কলকাতায় চলে আসে। তবে কলকাতায় তাঁর আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত আছে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট জানা যায়নি। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে মঙ্গলবার দুপুরে রিপন স্ট্রিট এলাকা থেকে সোহরাবকে গ্রেপ্তার করে। 

লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের মাধ্যমে দিল্লি নিয়ে যাবে দিল্লি পুলিশ। তবে পুলিশ সোহরাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং খতিয়ে দেখছে কলকাতায় পালিয়ে আসার নেপথ্যে কোনও অপরাধ সংগঠিত করার চেষ্টা ছিল না কি শুধুই নিজের গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা। পুলিশ গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখছে।