আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হিসাবে উত্থান থালাপাথি বিজয়ের। তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বেই নতুন সূর্যোদয় দক্ষিণী রাজনীতিতে। দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রথা ভেঙে তামিলনাড়ুতে সরকার গড়ল টিভিকে। রবিবার ছিল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শপথ নিলেন বিজয় ছাড়াও মন্ত্রীসভার ন'জন মন্ত্রী। আর সেখানেই তামিলনাড়ুর জনগণের জন্য একের পর এক চমকপ্রদ ঘোষণা বিজয়ের।
রবিবার সকাল ১০টায় শুরু হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকারের উপস্থিতিতে শপথ নেন সকলে। শপথগ্রহণের পরেই নির্বাচনী প্রচারের একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগী বিজয়। শপথ গ্রহণের পর তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী ও হেল্পলাইন চালুর ঘোষণা করেন। প্রথম সরকারি নির্দেশে এ সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্বাক্ষর করেন বিজয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, এ দিন বিজয় জনগণের উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন তাঁর নিজস্ব পরিচিত তামিল বাক্য 'এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম' (আমার হৃদয়ে যারা বাস করেন) দিয়ে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমি কোনও রাজপরিবার থেকে আসিনি। এক সহকারী পরিচালকের ছেলে থেকে আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, অনেক অপমান সহ্য করে আজ এখানে পৌঁছেছি। আপনারাও আমাকে আপনাদের ভাই, আপনাদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।"
বিজয় এ দিন জানান, তাঁর সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি কৃষক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাসও দেন তিনি। বলেন, "আমি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেব না। ডিএমকে সরকার রাজ্যকে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা দিয়ে গিয়েছে। মানুষের টাকার এক পয়সাও অপচয় হতে দেব না এবং কাউকেই লুঠ করতে দেওয়া হবে না।" তাঁর কথায় তামিলনাড়ুতে এ বার প্রকৃত অর্থে "ধর্মনিরপেক্ষ এবং সামাজিক ন্যায়ের নতুন যুগের সূচনা" হবে। পাশাপাশি, তাঁর দলকে সমর্থনের জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রবীণ চক্রবর্তী, বাম নেতা এমএ বেবি-সহ জোটসঙ্গীদেরও ধন্যবাদ জানান বিজয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলার মতোই তামিলনাড়ুতেও পালাবদলের সাক্ষী থাকেছে দেশ। জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকে বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমকপ্রদ ফল করেছে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে জমকালো সাজে হাজির ছিলেন বিজয়। পরনে ছিল কাল ট্রাউজ়ার, শাদা শার্ট, কালো ব্লেজ়ার। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে শপথগ্রহণ। চেন্নাইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তৃষা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।
এ দিন বিজয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মন্ত্রিসভার আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথগ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় এক দিকে যেমন রয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান। অন্য দিকে, নজর কেড়েছেন ২৯ বছর বয়সী কনিষ্ঠতম মন্ত্রী এস কীর্তনা। এছাড়াও রয়েছেন আধভ অর্জুনা, প্রাক্তন আইআরএস অফিসার অরুণরাজ এবং প্রাক্তন বিজেপি নেতা নির্মল কুমার।















