আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাদাখের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে রয়েছে এক রহস্যময় জাতি—ব্রোকপা। এই সম্প্রদায়ের মাত্র পাঁচ হাজার সদস্য ভারতের লেহ জেলার দাহ, বিয়ামা, হানু, এবং কার্গিল জেলার দারচিক, গারকনে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করেন। তাঁদের শারীরিক গঠন এবং চেহারার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাঁদের লাদাখের অন্যান্য তিব্বত-মঙ্গোলিয়ান বৈশিষ্ট্যের আদিবাসীদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
কিন্তু এই ব্রোকপা জনগোষ্ঠীর পরিচিতি শুধু এই বৈশিষ্ট্য দিয়েই নয়। পুরাণ এবং কিংবদন্তি অনুযায়ী, ব্রোকপারা নাকি পৃথিবীর শেষ ‘বিশুদ্ধ আর্য’ বংশধর। তাঁদের দাবি, আলেকজান্ডারের হারিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষ, যা তাঁদের বংশকে তথাকথিত ‘বিশুদ্ধ আর্য রক্তধারার’ অধিকারী করে তুলেছে।
কিংবদন্তির পাশাপাশি একটি বিতর্কিত বিষয়ও ব্রোকপাদের ঘিরে রয়েছে—“গর্ভধারণ পর্যটন”। বিভিন্ন সূত্রমতে, বহু বিদেশি নারী, বিশেষত জার্মানি থেকে, এই দূরবর্তী এলাকাগুলোতে আসেন শুধুমাত্র ব্রোকপা পুরুষদের সাথে সন্তান ধারণ করতে। কারণ, তাঁরা নাকি ‘বিশুদ্ধ আর্য রক্তধারা’ সংরক্ষণ করতে চান। যাদের উদ্দেশ্য একটাই—অভিজাত বংশধারা সংরক্ষণ করা। যদিও এই ‘গর্ভধারণ পর্যটন’ নিয়ে সরকারিভাবে কখনোই কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি, তবে এই নিয়ে প্রচুর জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, ব্রোকপাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যেমন লম্বা গঠন, নীল চোখ, এবং স্বর্ণাভ চুল, তাঁদের এক বিশেষ আকর্ষণীয়তা এনে দেয়, যা কেবল স্থানীয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরও মন কেড়ে নিয়েছে। তাঁদের “বিশুদ্ধ আর্য” হওয়ার ধারণা নানান গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এর পিছনে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
যদিও ‘বিশুদ্ধ আর্য রক্তধারা’ এবং ‘গর্ভধারণ পর্যটন’ নিয়ে বহুল আলোচনা রয়েছে, এর সত্যতা এখনো মেঘের আড়ালেই ঢাকা রয়েছে। এই গল্পে আসল রহস্যটা হয়তো কিংবদন্তির মিশ্রণেই লুকিয়ে। তবে ব্রোকপা সম্প্রদায়ের এই অনন্য পরিচয় এবং তাঁদের নিয়ে ছড়ানো মিথেরা শুধু পর্যটক নয়, গবেষকদেরও মুগ্ধ করছে।
