আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটের পর এ বার অসমেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি। দেশের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে বহুচর্চিত এই ইউসিসি বিল পাস করল অসম। পাঁচ দিনের বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে, বুধবার, তীব্র বাদানুবাদ ও বিরোধীদের আপত্তির মাঝেই পাশ হল বিলটি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার গত সোমবার এই বিলটি বিধানসভায় পেশ করেছিল। বিরোধীদের দাবি ছিল, বিলটিকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার জন্য বাছাই কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। তবে সেই দাবি খারিজ করে ধ্বনিভোটে বুধবার বিধানসভায় বিলটি পাস করিয়ে নেয় শাসক দল।

 

এ দিন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন রিলেশন ব্যক্তিগত আইনগুলিকে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। পাশ হওয়া বিলটিতে সম্পূর্ণভাবে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজ্যে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা যুগলদের জন্য সম্পর্ক নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে সম্পর্কে থাকা যুগল এবং তাঁদের সন্তানদের আইনি অধিকার সুরক্ষিত হবে। এ ছাড়া, পুরুষদের জন্য বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীদের জন্য ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

জানা গিয়েছে, অসমের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা করে প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই বিয়ে করা যাবে এমন বিষয়ও থাকছে ওই বিলে। পাশাপাশি, অসমের তপশিলি উপজাতিদের এই আইনের আওতা থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিকার আইনের আধুনিকীকরণ করে লিঙ্গবৈষম্য দূর করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্বামী, সন্তান ও বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ইউসিসি বিল কার্যকর হলে আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। ২০২৩-এর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮২ ধারা অনুযায়ী বহুবিবাহের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদন্ডের কথা বলা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে লিভ-ইন রিলেশন রেজিস্ট্রি না করলে ৩ মাসের কারাবাস অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। তথ্য গোপন করলে হতে পারে ৩ মাসের জেল এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। বাল্যবিবাহ বা জোরপূর্বক বিয়ের ক্ষেত্রে ২ বছরের জেল এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিচয় বা তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করলে ৭ বছরের কারাদণ্ড। বেআইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের পর পুনরায় বিয়ের জন্য কোনও বেআইনি শর্ত চাপালে ৩ বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে বিয়ে বা ডিভোর্স রেজিস্ট্রি না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

 

কংগ্রেস, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, বিলটি আনার আগে বিরোধী দল এমনকি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা করা হয়নি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সরকার এই আইন পাশ করে। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নেতৃত্বে গুজরাট দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে এই বিল পাশ করেছিল। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো অসমের নাম।