আজকাল ওয়েবডেস্ক: অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মওলানা সাজিদ রশিদির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রশিদি দাবি করেছেন যে, সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হল বিয়েতে দেরি হওয়া। তাঁর মতে, মেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর দ্রুত বিয়ে দিলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে তাঁর এই বক্তব্যকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, রশিদি পালটা দাবি করেছেন যে তাঁর এই সামাজিক সংস্কারমূলক বক্তব্যকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মুসলিম পার্সোনাল ল যাই বলুক না কেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনও মেয়ের বিয়ে হলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি এই ধরনের ক্ষেত্রে পকসো (POSCO) আইনের অধীনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাইকোর্টের এই রায়ের পরেই মুসলিম পার্সোনাল ল-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা সাজিদ রশিদি এই মন্তব্য করেন।

রশিদির এই বয়ানের তীব্র বিরোধিতা করে ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি বলেন, যাঁরা দেশের সংবিধান মেনে চলতে চান না, তাঁদের এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। পাশাপাশি, বিজেপির প্রবীণ নেতা সৈয়দ শাহনওয়াজ হুসেন এই মন্তব্যকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের আপত্তিকর বয়ান দিয়ে রশিদি পুরো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছেন। রশিদির অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি করেন।

বিতর্ক বাড়তেই নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সাফাই দিয়েছেন সাজিদ রশিদি। তিনি বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও কিছু আধুনিক আইনের দিকে আঙুল তুলে বলেন, আজ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে সমকামী বিয়েকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে অথবা কোনও  বিবাহিত নারী অন্য পুরুষের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এইরকম এক সমাজব্যবস্থায় দাঁড়িয়ে যদি কেউ ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধি বা কোনও  অঘটন থেকে বাঁচতে মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন, তবে সেটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানো হচ্ছে।

রশিদি আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনওভাবেই ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বা বাল্যবিবাহের ওকালতি করেননি। ইসলাম ও শরিয়তের নিয়ম মেনে মেয়েদের সাবালিকা বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে দেওয়ার কথাই তিনি বলতে চেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে ঝাড়খণ্ড, অসম, বিহার, ত্রিপুরা, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজও সমাজে বহু জায়গায় বাল্যবিবাহ প্রথা চলছে, যা তিনি সমর্থন করেন না। তিনি কেবল সামাজিক সংস্কারের স্বার্থে কথা বলেছিলেন, কিন্তু কিছু মানুষ একে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে।