আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি শোধনাগার উদ্বোধন করার নির্ধারিত সময়ের চব্বিশ ঘণ্টা আগে সেটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। আগুনের ফলে গোটা এলাকা বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘে ছেয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর তেল মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে শোধনাগারটির উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, আগুন ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কী কারণে আগুন লাগলো তা খুঁজে বার করা সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

বালোত্রার পাচপাদ্রায় অবস্থিত এই শোধনাগারটি, যা ভারতের প্রথম গ্রিনফিল্ড সমন্বিত শোধনাগার তথা পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এটি হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) এবং রাজস্থান সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি, এই শোধনাগারটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যও উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পণ্যগুলি এলাকার আসন্ন শিল্প ইউনিটগুলোর জন্য উচ্চমানের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করবে। পলিপ্রোপিলিন, পলিইথিলিন (এইচডিপিই/এলএলডিপিই), বেনজিন, টলুইন এবং বিউটাডাইনের মতো পণ্যের ওপর ভিত্তি করে শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, যা একটি শক্তিশালী শিল্প বাস্তুতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করবে।

এই উপকরণগুলো প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, কৃষি পাইপ, প্যাকেজিং ফিল্ম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সিন্থেটিক ফাইবার, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং রং ও ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক-সহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। 

রাজ্যে অশোক গেহলতে সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সোনিয়া গান্ধী এই শোধনাগারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এটির প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭,২৩০ কোটি টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর, প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ব্যয় সংশোধন করে ৪৩,১২৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করেন।