আজকাল ওয়েবডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের উৎসব মানেই ভরপুর খাবার, পারিবারিক মিলন আর জাঁকজমক। তার মধ্যে সংক্রান্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, ফসল তোলার পর আত্মীয়স্বজনের একত্র হওয়া, নতুন সম্পর্ককে আপন করে নেওয়ার এক সামাজিক পর্ব। এ বছর সেই সংক্রান্তিকেই অন্য মাত্রায় নিয়ে গেলেন কনসীমা অঞ্চলের এক পরিবার।

অন্ধ্রপ্রদেশের কনসীমা জেলার মামিডিকুদুরু মণ্ডলের আদুরু গ্রামের বাসিন্দা বিজ্জাপু বেঙ্কট রত্নম ও তাঁর স্ত্রী সুশীলা তাঁদের মেয়ের প্রথম শ্বশুরবাড়ি আগমন উপলক্ষে আয়োজন করেন এক ব্যতিক্রমী সংক্রান্তি উৎসব। তাঁদের কন্যা কীর্তিশ্রী ও জামাই বোদ্দু সাই শরথের বিয়ের পর এটিই ছিল কনের বাপের বাড়িতে প্রথম আগমন যা দক্ষিণ ভারতের বহু পরিবারে গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে।

এই উপলক্ষ স্মরণীয় করে তুলতেই পরিবারটি আয়োজন করে এক বিশাল ভোজের। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নবদম্পতি পাশাপাশি বসে আছেন, আর তাঁদের সামনে সারি সারি টেবিলে সাজানো ১৩৭৪টি খাবার। ক্যামেরা ধীরে ধীরে ঘুরে দেখায় সেই বিশাল আয়োজন, যা দেখে অনেকেই বিস্মিত।

ভোজের তালিকায় ছিল বিরিয়ানি থেকে বার্গার, নানা ধরনের ভাজা খাবার, ঘরে বানানো মিষ্টি, তাজা ফল, ঘোল, ফলের রস, ঐতিহ্যবাহী নাস্তা ও স্থানীয় বিশেষ পদ। কেবল ঘরোয়া রান্নাই নয়, কনসীমা ও গোধাবরী বদ্বীপ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা নির্বাচিত খাবারও ছিল এই আয়োজনে। সব মিলিয়ে খাবারের সংখ্যার চেয়ে বেশি নজর কাড়ে তার পরিমাণ ও বৈচিত্র্য।

খাবারের পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে রাখা হয়েছিল সাজানো স্বাগত তোরণ ও বোর্ড যাতে নবদম্পতির উদ্দেশ্যে লেখা ছিল শুভেচ্ছাবার্তা। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আয়োজনটিকে আরও ব্যক্তিগত ও আবেগঘন করে তোলে।

এতেই শেষ নয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে নবদম্পতিকে দেওয়া হয় ১২টি প্রতীকী উপহার যা বছরের ১২ মাসের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মাধ্যমে তাঁদের বিবাহিত জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের কামনা করা হয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ সমালোচনার সুরে লেখেন, “এত খাবারের কী দরকার? কিছু মিষ্টি গরিব শিশুদের দিলে আশীর্বাদ পেতেন।” আবার কেউ ঠাট্টার ছলে মন্তব্য করেন, “সব খাবার কি জামাই একাই শেষ করবে?” আরেকজন লেখেন, “এই লোকজনই আবার পণ চাইলে কান্নাকাটি করে।”

কিছু মন্তব্যে উঠে আসে সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্নও। একজন লেখেন, “গোধাবরী জেলায় এই শো-অফ খুব সাধারণ ব্যাপার। সমাজের জন্য কী বার্তা যায়?” কেউ আবার আক্ষেপ করেন, “ইচ্ছে হয়, পুত্রবধূরাও যদি কখনও এমন সম্মান পেত।”

তবে হালকা মজার মন্তব্যও কম ছিল না “প্লেটটা কিন্তু খুব ছোট,” কিংবা “আমি ওই এলাকারই লোক, সবাই খুব লোক দেখতে ভালোবাসে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েক দিন আগেই অন্ধ্রপ্রদেশের তেনালি শহরে ঘটে যায় প্রায় একই ধরনের ঘটনা। সেখানে এক পরিবার জামাই আদরে তৈরি করেছিল ১৫৮টি পদ। বন্দনাপু মুরলীকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের মেয়ে মৌনিকা ও জামাই শ্রীদত্তের জন্য প্রথম সংক্রান্তির আয়োজন করেছিলেন সেই বিশাল ভোজ যার মধ্যে ছিল অসংখ্য মিষ্টি, ভাতের পদ, তরকারি ও স্থানীয় খাবার।

এই ঘটনাগুলি আবারও সামনে এনে দিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের গোধাবরী অঞ্চলের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি ও সামাজিক রীতির জাঁকজমক। কারও কাছে তা ঐতিহ্যের গর্ব, আবার কারও কাছে অপ্রয়োজনীয় প্রদর্শন। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই এই ভোজের গল্প গ্রাম ছাপিয়ে পৌঁছে গেছে গোটা দেশের আলোচনায়।