আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিত্যদিন ঝামেলা। শেষমেশ চরম পদক্ষেপ এক দম্পতির। খুদে সন্তানের শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা। এরপর আত্মঘাতী হয় তারা। বরাতজোরে প্রাণ বেঁচে গেছে খুদের। অন্যদিকে মর্মান্তিক পরিণতি ওই দম্পতির।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার কে.আর পেটে শহরে। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, খুদে সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে দম্পতি। পারিবারিক অশান্তির জেরেই এমন চরম পদক্ষেপ করে তারা। এরপর আত্মঘাতী হয় তারা। কিন্তু সবশেষে খুদের প্রাণ বেঁচে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম, দর্শন ও দিব্যাশ্রী। তিন বছর আগে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দু'বছর বয়স তাঁদের সন্তানের। জয়নগর এলাকায় এক ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। কী কারণে দম্পতি এহেন পদক্ষেপ করল, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে তাদের অনুমান, লাগাতার ঝামেলার কারণেই সন্তানকে খুনের চেষ্টা করে আত্মঘাতী হয় তারা।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার আগে দু'বছরের সন্তানের শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে দম্পতি। সে অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। তা দেখেই ধারণা ছিল, তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর সেই ঘরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় দম্পতি। আত্মীয়রা ঘরে ঢুকেই খুদেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃতদেহ। এক দম্পতি ও তাদের তিন খুদে সন্তানের নিথর দেহকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। দিল্লির সেই বুরারিকাণ্ডের ছায়া খাস নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গুজরাটের আহমেদাবাদের বাগোদারায়। পুলিশ জানিয়েছিল, মৃতেরা হলেন বিপুল ভাগেলা ও সোনাল ভাগেলা এবং তাঁদের ১১ ও পাঁচ বছরের দুই কন্যাসন্তান ও আট বছরের এক পুত্রসন্তান। রবিবার সকালে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
এদিন সকালে প্রতিবেশীরাই পুলিশে প্রথম খবর দেন। ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী, অ্যাম্বুল্যান্স। দুটি ঘর থেকে পাঁচজনের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পাঁচজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুই কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তানকে খুন করে দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছিল।
এদিকে মৃত দম্পতির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা আদতে ঢোলকার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে বাগোদারায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিপুল পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন। পরিবারে তিনি একাই উপার্জন করতেন। সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর্থিক অনটনের কারণেই হয়তো চরম পদক্ষেপ করেছেন।
পরিবারের তরফে আরও জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিপুল ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনেছিলেন। সেটির ধাঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। একদিকে সংসারের চাপ, অন্যদিকে ঋণের বোঝা। সবমিলিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তিন সন্তানকে বড় করে তোলার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। ঋণের কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান পরিবারের।
