আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই এবার সরব হলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সাতারা জেলা পরিষদের নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে 'গণতন্ত্রের হত্যা' বলে অভিহিত করে বিধানসভায় রীতিমতো ঝড় তুলেছেন শিন্ডে। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বন্ধু যখন শত্রু হয়, তখন পরিস্থিতি ঠিক কতটা জটিল হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো। বিজেপির দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং বর্তমানে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সরাসরি বিজেপি নেতাদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাতারা জেলা পরিষদের নির্বাচনে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করেছে। 

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ মার্চ, শুক্রবার। ওই দিন সাতারা জেলা পরিষদের সভাপতি পঁচন নির্বাচন ছিল। হিসেব অনুযায়ী, শিবসেনা এবং এনসিপি (NCP) জোটের কাছেই গরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে জয়ী হন বিজেপির প্রিয়া শিন্ডে। একনাথ শিন্ডের দাবি, পুলিশ ব্যবহার করে শিবসেনা-এনসিপি জোটের ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তিনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে পুলিশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোট দিতে বাধা দিতে পারে? এটি কেবল অপরাধ নয়, বরং "গণতন্ত্রের হত্যা"।

শিন্ডে অভিযোগ করেছেন যে, ডিজিপি সদানন্দ দাতে-র মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা প্রতিনিধিদের ভোটকেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেন। আরও রহস্যজনক বিষয় হল, ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ঠিক পরেই সেই আটকে রাখা প্রতিনিধিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শিন্ডের মতে, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত ছক।

নিজের জোটসঙ্গীর এমন বিস্ফোরক আক্রমণে স্বভাবতই অস্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। বিধানসভায় হট্টগোলের মুখে তিনি জানিয়েছেন, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকার এই ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এতদিন পর্যন্ত ফড়নবিশ নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করে আসছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিবসেনা ভাঙার পর থেকে শিন্ডে এবং বিজেপির রসায়ন খুব একটা মসৃণ ছিল না। একসময়ের মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে এখন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন, যা তাঁর শিবিরের অনেকের কাছেই সুখকর ছিল না। এই সাম্প্রতিক ঘটনা 'মহায়ুতি' জোটের অন্দরের ফাটলকে জনসমক্ষে নিয়ে এল।  গুয়াহাটিতে বিধায়কদের নিয়ে যাওয়ার সেই ঐতিহাসিক বিদ্রোহের পর থেকে মহারাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এবার সেই প্রশ্ন যখন খোদ জোটের ভিতর থেকে উঠল, তখন পরিস্থিতি যে বেশ গুরুতর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।