আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, তার ওপর বাবার মদের নেশা। সেই নেশার টাকা জোগাতে না পারায় নিজের মেয়ের স্কুলবই আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন এক ব্যক্তি। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন প্রতিবেশীরা। চোখের জল মুছে ফের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেল কিশোরী আরতি। কিশোরীর পরীক্ষার আগে আগেই এহেন ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরতির বাবা নিয়মিত মদ্যপান করেন। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। ঘটনার দিন আরতির কাছে টাকা চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভাবের সংসারে টাকা না পেয়ে মেজাজ হারান ওই ব্যক্তি। আক্রোশ মেটাতে মেয়ের গুছিয়ে রাখা স্কুলবই আর খাতাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আরতির অপরাধ ছিল এটুকুই- সে পড়তে চেয়েছিল।
সব হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল মেয়েটি। শেষমেশ বিচার চাইতে স্থানীয় থানায় হাজির হয় সে। তার বিধ্বস্ত দশা আর চোখের জল দেখে স্থির থাকতে পারেননি কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে আরতির পড়াশোনার দায়িত্ব নেন।
জানা গিয়েছে, পুলিশ কর্মীরা নিজেরাই বাজারে গিয়ে আরতির জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক, খাতা এবং পেন কিনে আনেন। থানা চত্বরেই তার হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বইয়ের প্যাকেট। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।
খাকি উর্দির আড়ালে থাকা এই মানবিক মুখ দেখে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। “বইগুলো যখন পুড়ছিল, মনে হয়েছিল আমার ভবিষ্যৎটাও বোধহয় ছাই হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কাকুরা নতুন বই না দিলে পড়াশোনাটাই বন্ধ হয়ে যেত", আবেগঘন গলায় জানায় কিশোরী আরতি।
অন্যদিকে, চিকিৎসক সেজে চিকিৎসার নামে চরম প্রতারণা! এক ভুয়ো চিকিৎসকের দেওয়া ইঞ্জেকশনে প্রাণ হারালেন নভি মুম্বইয়ের ২১ বছর বয়সি এক তরুণী। অভিযুক্ত যুবক আদতে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভাশি এলাকায়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম প্রচিতি ভিকুরাম ভুভাড়। পরিবার সূত্রে খবর, ঋতুচক্রের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত সন্দেশ যশবন্ত পাস্তে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে প্রচিতির বাড়িতে আসেন। তিনি দাবি করেন, তরুণী ‘পিসিওডি’(পলিসিস্টিক ওভারি)-তে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য পাঁচটি ইঞ্জেকশন দিতে হবে জানিয়ে ১৫ হাজার টাকাও নেন ওই যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেন সন্দেশ। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই প্রচিতি জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম ভর্তি ব্যাগটি তরুণীর বাবাকে দিয়ে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রচিতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের চাপে পড়ে শেষে নিজের অপরাধ কবুল করেন সন্দেশ। জানান, তিনি চিকিৎসক নন, আন্ধেরির একটি নার্সিং হোমের সামান্য ওয়ার্ড বয় মাত্র। ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাশি থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তরুণীর শরীরে ঠিক কী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
















