আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত Unmanned Aerial Vehicle Launched Precision Guided Missile V3- এর ফ্লাইট পরীক্ষায় সফলভাবে সম্পূর্ণ করল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে অবস্থিত ন্যাশনাল ওপেন এরিয়া রেঞ্জে এই ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ইউএলপিজিএমের তৃতীয় সংস্করণ মূলত দ্বিতীয় সংস্করণেরই একটি উন্নত সংস্করণ বলে জানা গিয়েছে। এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে হাই ডেফিনিশন ডুয়াল-চ্যানেল সিকার, যা দিন ও রাতে সমানভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। জানা গিয়েছে, এটি সমতল ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল, উভয় ক্ষেত্রেই উৎক্ষেপণযোগ্য। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর টু-ওয়ে ডেটা লিঙ্ক। যার সাহায্যে উৎক্ষেপণের পরও টার্গেট আপডেট করা যায় বলে জানা যাচ্ছে।

এই নয়া সংস্করণে রয়েছে মূলত তিন ধরনের মডুলার ওয়ারহেড বিকল্প। এর মধ্যে রয়েছে, অ্যান্টি-আর্মার ওয়ারহেড, যা মর্ডান আর্মার্ড ভেহিকেল ধ্বংস করতে সক্ষম।  রয়েছে পেনিট্রেশন-কাম-ব্লাস্ট ওয়ারহেড, যা বাঙ্কার ধ্বংসে কার্যকর এবং এই ক্ষেপনাস্ত্রে রয়েছে প্রি-ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেড, যার রয়েছে হাই লিথালিটি জোন। জানা গিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র যৌথভাবে তৈরি করেছে ডিআরডিও-র বিভিন্ন ল্যাবরেটরি। তার মধ্যে রয়েছে, রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI), ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL), টার্মিনাল ব্যালিস্টিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (TBRL), হাই এনার্জি মেটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL), ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) এবং ডিফেন্স ইলেকট্রনিকস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (DLRL)।

আরও পড়ুন: যুদ্ধক্ষেত্রে ফালাফালা হবে শত্রু, তাক লাগানো আবিষ্কার আমেদাবাদের ইঞ্জিনিয়রের! বারত মিলল ভারতীয় সেনার

তবে সূত্রের খবর, চলতি ট্রায়াল মূলত অ্যান্টি-আর্মার কনফিগারেশনের জন্য পরিচালিত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সংস্থা ‘নিউস্পেস রিসার্চ টেকনোলজিস’-এর নির্মিত একটি দেশীয় ড্রোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জানা গিয়েছে, ডিআরডিও বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে দীর্ঘ পাল্লার ও দীর্ঘস্থায়ী উড়ান ক্ষমতাসম্পন্ন ইউএভি-এর সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করার কাজ চালাচ্ছে। এই ব্যবস্থায় অংশ নিচ্ছে অন্যান্য একাধিক ভারতীয় সংস্থাও। এই প্রকল্পের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আদানি ডিফেন্স, হায়দরাবাদের ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এবং প্রায় ৩০টি এমএসএমই ও স্টার্টআপ সংস্থা। এই সংস্থাগুলি উন্নয়ন ও উৎপাদন পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যের জন্য ডিআরডিও সহ সমস্ত অংশীদারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতের শিল্প এখন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন ও গ্রহণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। ডিআরডিও চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামাত বলেন, ‘এই ধরনের অস্ত্র ভারতের বর্তমান প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ’। এই উন্নয়ন ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতায় এক বিশাল পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, আহমেদাবাদের ইঞ্জিনিয়র কেশবকান্ত শর্মা ‘গতি’ নামে একটি বিশেষ ড্রোন তৈরি করেছেন। সেই ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে গ্রেনেড হামলা চালাতে সক্ষম এবং বিস্ফোরণের পরে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে। সামরিক ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘গতি’ ড্রোনটি ইতিমধ্যেই পরীক্ষার সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে মুগ্ধ করেছে। ফলে ভারতীয় সেনা ২০টিরও বেশি ‘গতি’ ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে।