আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিনের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথেই মুখ ঘুরিয়ে ভারতের দিকে ছুটছে একটি বিশাল রুশ তেলের ট্যাঙ্কার। দক্ষিণ চিন সাগরে গতিপথ বদলে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’ নামের ওই জাহাজটি এখন ভারতের নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জাহাজ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব রাজেশ সিনহা এই খবর জানিয়েছেন।

ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ওই জাহাজটি গত ১৮ জানুয়ারি রাশিয়ার বন্দর থেকে ৭.৭ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২১ মার্চ এটি ভারতে এসে পৌঁছনোর কথা।

মূলত মধ্য এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বর্তমানে গালফ্ অঞ্চলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কার্যত লাটে উঠেছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে উৎপাদনও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন সপ্তাহে তেল ও গ্যাস নিয়ে চারটি ভারতীয় জাহাজ ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিপাকে পড়েছে আরও বহু ভারতীয় জাহাজ। জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে ২২টি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। এই প্রণালীটি দিয়েই বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যাতায়াত করে।
 
প্রণালীর পূর্ব দিকেও আটকে রয়েছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ দু’টি ভারতীয় জাহাজ। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের জোগানে বড় টান ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এহেন যুদ্ধের আবহে স্বস্তি দিল দুই ভারতীয় জাহাজ। রান্নার গ্যাস বোঝাই ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’ গুজরাটের বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে। এই দুই জাহাজে যে পরিমাণ গ্যাস এসেছে, তা ভারতের এক দিনের চাহিদার সমান। তবে হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছেন আরও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক। তাঁদের ফেরাতে তৎপর দিল্লি।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের জেরে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে ইস্তফা দিয়েছেন সে দেশের সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান জো কেন্ট। তাঁর অভিযোগ, ইজরায়েলি লবির চাপে অকারণ এই যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প সরকার।

এরই মধ্যে বুধবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বেইরুটেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। কোনও সতর্কতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের বাসস্থানে বোমা পড়ার খবর মিলেছে।