আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরজুড়ে ইরানের জন্য অর্থ সংগ্রহের কাজ চলছিল। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন। জম্মু ও কাশ্মীরের গোয়েন্দা সংস্থার (এসআইএ) তদন্তে সামনে উঠে এসেছে বড় বিষয়। জানা গিয়েছে, ১৪ মার্চ ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাহায্যের জন্য করা আবেদন দালাল ও প্রতারকদের একটি সুসংগঠিত চক্র ছিনতাই করেছে। অভিযোগ এইসব দাদাল বা প্রতারকরা ব্যক্তিগত লাভ এবং সম্ভাব্য দেশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য নিরীহ সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছে।
অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ বিস্ময়কর। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অনুমান, উপত্যকা জুড়ে প্রায় ১৭.৯১ কোটি টাকা, সেইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুদগাম থেকে ৯.৫ কোটি টাকা, বারামুল্লা থেকে ৪ কোটি টাকা এবং শ্রীনগর থেকে ২ কোটি টাকা, এবং কুলগাম, বান্দিপোরা, গান্দেরবাল ও পুলওয়ামা থেকে অল্প হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, এই দালালরা অনুদান সংগ্রহের জন্য আবেগঘন ও ধর্মীয় আবেদনকেই তাস হিসাবে ব্যবহার করেছে। এইসব দালালরা অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল পরিবারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। অনেকেই ইরানকে সমর্থনে, মেয়ের বিয়ের জন্য জমানো টাকা, গবাদি পশু, তামার বাসনপত্র এবং সোনার গহনাও দান করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে একটি ‘সংযোগকারী’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায়, এমন ব্যক্তিরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে যাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা মূল ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীনগরের বাগওয়ানপোরার বাসিন্দা হাকিম সাজ্জাদ, যাকে স্থানীয় আলেমদের কাছে ইরানি তহবিলের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং সৈয়দ রুহুল্লাহ রিজভী, যিনি মূলত গান্দেরবালের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ইরানে রয়েছেন।
রিজভীকে বহিরাগত নিয়ন্ত্রক এবং স্থানীয় সংগ্রাহকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাগুলো বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, সংগৃহীত তহবিলের প্রায় অর্ধেক কাশ্মীরের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রভাব বজায় রাখার জন্য প্রাপকদের একটি ‘বেতন তালিকা’ টিকিয়ে রাখতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এটা মৌলভী সার্জন বারকাতি ক্রাউড-ফান্ডিং র্যাকেট নিয়ে এসআইএ-র চলমান তদন্তে দেখা কৌশলেরই প্রতিচ্ছবি।
এই তদন্ত এখন এসআইএ-র পাশাপাশি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-সহ একাধিক জাতীয় সংস্থার নজরে এসেছে। কর্তৃপক্ষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং স্টলে টাকা তোলার এই কাজে সহায়তাকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছে এবং জানিয়েছে যে, দক্ষিণ কাশ্মীরের পরিচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্যক্তিদের মতো একই ধরনের পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে ওইসব দালালদের। অভিযান জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ জনসাধারণকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং অনুদান দিতে আগ্রহী যেকোনও ব্যক্তি বা সংস্থার পরিচয় যাচাই করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। কারণ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ছায়ায় প্রকৃত দাতব্য কাজ এবং পরিকল্পিত আর্থিক প্রতারণার মধ্যেকার সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে।















