আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধ চলমান। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে সেখানকার আকাশপথ কার্যত বন্ধ হওয়ায় ঘোর বিপাকে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়াকে বড় স্বস্তি দিল দেশের বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।
আন্তর্জাতিক রুটে পাইলটদের কাজের সময়সীমা বা ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’-এ সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে সুরক্ষার প্রশ্নে সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাইলটদের সংগঠন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্য এশিয়ার আকাশপথ এড়িয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে উড়ান চালাতে হচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়াকে। এতে ভারত থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উড়ানগুলির সময় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ সার্কুলার অনুযায়ী, দু’জন পাইলট চালিত দূরপাল্লার উড়ানের ক্ষেত্রে ডিউটির সময়সীমা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে ডিজিসিএ।
পাইলটরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ১১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট টানা বিমান ওড়াতে পারবেন, যা আগের তুলনায় দেড় ঘণ্টা বেশি। ডিউটিতে যোগ দেওয়া থেকে বিমান অবতরণ পর্যন্ত মোট সময়সীমা ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের সুরক্ষায় চার ঘণ্টার অতিরিক্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম বহাল থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত কিন্তু সহজভাবে নিচ্ছে না ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস। ডিজিসিএ-কে কড়া চিঠি দিয়ে তারা জানিয়েছে, পাইলটদের কাজের সময় বাড়ালে ক্লান্তিবশত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
পাইলটদের দাবি, ডিউটি ১৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে মানুষের শক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দ্রুত কমতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ বিমান চালানোর পর ভোরের দিকে যখন শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেই সময়ে অবতরণের মতো জটিল কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়াও জানান হয়েছে, বোয়িং ৭৮৭ বিমানে ক্যাপ্টেনের আসন পুরোপুরি হেলানো যায় না। দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে বসে থাকায় পাইলটদের শারীরিক কষ্ট ও ক্লান্তি চরমে পৌঁছোচ্ছে।
আপাতত এই টানাপড়েনের মধ্যে মাঝ আকাশে পাইলটদের ক্লান্তি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা- দুই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মহলে।
