নিতাই দে, আগরতলা: ছোট রাজ্য ত্রিপুরায় আমরা জাতি, জনজাতি সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই। তবেই গড়ে উঠবে এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা। এই তীর্থমুখের ইতিহাস ত্রিপুরার ইতিহাসের একটি অলঙ্কার। সারা ভারতবর্ষের লোক জানে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ত্রিপুরার গোমতী জেলার করবুকের তীর্থমুখে দু’দিনব্যাপী পৌষ সংক্রান্তি মেলার উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা। 

তিনি বলেন, “তীর্থমুখ মেলা ত্রিপুরাবাসীর জন্য গর্বের। এই মেলার এক ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার পূণ্যার্থী শুধুমাত্র এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই মেলাতে পার্শ্ববর্তী রাজ্য মিজোরাম, অসম, মণিপুর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসেন। আগে বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর পরিমাণে লোক আসতেন। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে মানুষ এই মেলায় আসতে পারছেন না।” তিনি আরও বলেন, “এই তীর্থমুখ মেলাকে কেন্দ্র করে মেলাতে আসা পূর্ণার্থীরা এই দিনটিতে তাঁরা পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকেন। আক্ষরিক অর্থেই জাতি জনজাতির মিলনক্ষেত্র হচ্ছে পৌষ সংক্রান্তি মেলা। যাঁরা ভগবানকে বিশ্বাস করেন তাঁদের কাছে পৌষ সংক্রান্তি অন্যতম পবিত্র দিন। পৌষ সংক্রান্তিতে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে আরাধনা করা হয়ে থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মকর সংক্রান্তি ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় নানা নামে পালন করা হয়ে থাকে। তীর্থমুখ পৌষ সংক্রান্তি মেলার একটা সুপ্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। এই দিনে পূণ্যস্নান, অস্থি বিসর্জনের জন্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকেও অনেকে এখানে এসে ভীড় জমিয়ে থাকেন।” 

তিনি বলেন, “রাজ্যের সমস্ত জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হবে এবং রাজ্য সরকার সে উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছে। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে রাজ্য এগিয়ে যাবে। মেলা মানেই হচ্ছে মিলনক্ষেত্র।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের ধর্মীয় স্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন। এর অঙ্গ হিসেবেই মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকেও নতুন করে সাজানো হয়েছে। এর ফলে এই মন্দিরে পূণ্যার্থীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেক শাসকই যুগের পর যুগ ভারতকে শাসন করলেও দেশের মূল কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা যায়নি। এটাই হচ্ছে ভারতের ঐতিহ্য। ভারতবর্ষ হচ্ছে সনাতনীদের দেশ। রাম মন্দির হচ্ছে এই দেশের আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতীক। স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের ধর্মীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন। দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করার জন্য ব্রত নিয়ে কাজ করে চলেছেন।” 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালের পর থেকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যেও এর ছোঁয়া লেগেছে। জনজাতিদের উন্নয়নে রাজ্যে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জনজাতিদের সমাজপতিদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এখন তাদের প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৮ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত জনজাতি গোষ্ঠীর ৭ জনকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়েছে। রাজ্যের জনজাতি এলাকাগুলির জন্য আরও ১৫টি একলব্য বিদ্যালয়েয়র জন্য ভারত সরকারের কাছে দাবী জানানো হয়েছে।”