আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার রাতে দিল্লির রাজপথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরুণ ডেলিভারি এজেন্ট। মত্ত অবস্থায় এক যুবক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে এসে পিষে দিল তাঁর বাইককে। পশ্চিম দিল্লির সুভাষ নগর মেট্রো স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম হেম শঙ্কর (২৫)। তিনি ‘জেপ্টো’ সংস্থায় কাজ করতেন। জানা গিয়েছে, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন হেম। শনিবার রাতে যখন তিনি গ্রাহকের খাবার পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উল্টোদিক থেকে ধেয়ে আসে একটি বেপরোয়া গাড়ি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, ধাক্কা মারার পর গাড়িটি হেমকে বেশ খানিকটা রাস্তা ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। শেষমেশ রাস্তার ধারের একটি খুঁটিতে ধাক্কা মেরে গাড়িটি থামে। রঘুবীর নগরের বাসিন্দা হেম গত এক বছর ধরে ওই সংস্থায় কাজ করছিলেন। ছোট ভাই সমীরের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি রাত জেগে ডেলিভারির কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একটি হুন্ডাই ভার্না গাড়ি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে হঠাতই লেন বদলে হেমের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে চালক মোহিত কুমার (২৭) ও তাঁর এক বন্ধুকে ধরে ফেলে পুলিশে দেয় জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক মদ্যপ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবহেলার কারণে মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডেটিং অ্যাপে আলাপ, তার পর লিভ-ইন। কিন্তু সেই প্রেমের পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ত্রিপুরার তরুণী। গুরুগ্রামে পড়তে এসে দিল্লির যুবকের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হলেন ১৯ বছরের এক ছাত্রী। অভিযুক্ত শিবমকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে দিল্লির একটি হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে ওই তরুণীর।
পুলিশ সূত্রে খবর, ত্রিপুরার ওই তরুণী গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি নিয়ে পড়তে এসেছিলেন। সেক্টর ৬৯-এর একটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) আবাসে থাকতেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে দিল্লির নরেলার বাসিন্দা শিবমের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। পরিচয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তাঁরা লিভ-ইন শুরু করেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের।
কিন্তু অভিযোগ, কিছু দিন যেতেই শিবম ওই তরুণীকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। আর তার পরেই শুরু হয় অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেই নৃশংসতা চরমে ওঠে। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, বচসা চলাকালীন স্টিলের বোতল ও মাটির পাত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এমনকী দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর গোপনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করেন শিবম।
এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে ওই ছাত্রীর পা চিরে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শিবম হুমকি দিয়েছিলেন যে, মারের চোটে তরুণী আর কোনও দিন হাঁটতে পারবেন না বা মা হতে পারবেন না। এমনকী মুখ বন্ধ রাখতে তাঁর নগ্ন ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেলও করা হত বলে দাবি নির্যাতিতার।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শিবমের নজর এড়িয়ে তাঁর ফোন থেকেই নিজের মাকে ফোন করেন ওই তরুণী। শিবম বাংলা বোঝেন না, সেই সুযোগ নিয়ে নিজের মাতৃভাষাতেই মা-কে সমস্ত কথা জানান তিনি। ফোনে তরুণী বলেন, "আমাকে যদি জীবিত দেখতে চাও, তবে এসে খুঁজে বের করো।" মেয়ের কথা শুনেই পুলিশে খবর দেন তাঁর মা, যিনি নিজেও এক জন পুলিশকর্মী। এর পরই গুরুগ্রাম পুলিশ ওই পিজি থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং শিবমকে পাকড়াও করে।
